চট্টগ্রাম মহানগরীর থানাগুলোতে ঘন ঘন ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) বদলি এখন একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার চেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। গত ২০ মাসে একাধিকবার এমন রদবদলের ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একই কর্মকর্তারা ঘুরেফিরে গুরুত্বপূর্ণ ও ‘আকর্ষণীয়’ থানাগুলোতে দায়িত্ব পাচ্ছেন, যা এই বদলির পেছনে কোনো অদৃশ্য প্রভাব বা দুর্নীতির ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করছেন অনেকে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী মনে করেন, ঘুষ এই অদৃশ্য প্রভাবের অন্যতম কারণ হতে পারে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একটি থানায় দায়িত্ব নিয়ে সেখানকার অপরাধ জগৎ, সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং গোয়েন্দা তথ্য আয়ত্ত করতে একজন কর্মকর্তার কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু কয়েক মাস পরপর বদলি হলে কার্যকর পুলিশিং সম্ভব হয় না। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বদলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। যে থানাগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেগুলোতে নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার বারবার পদায়ন স্বচ্ছতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তোলে। তিনি বদলি প্রক্রিয়াকে একটি স্পষ্ট, লিখিত নীতিমালার অধীনে এনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এবং তা প্রকাশের দাবি জানান, যাতে জনগণের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ৫ আগস্ট থেকে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা পুলিশের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস শুরু হয়, যার কেন্দ্রে ছিল থানার ওসি পদ। ৯ সেপ্টেম্বর একযোগে ৩০ জন পরিদর্শককে বদলি করা হয়, যার মধ্যে ১৩ জন ছিলেন মহানগর পুলিশের ওসি এবং অন্তত ১২টি জেলার থানার ওসি। এর আগে ২ সেপ্টেম্বর তাদের পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়, যা মাঠ পর্যায়ের নেতৃত্বকে তাৎক্ষণিকভাবে শূন্য করে দেয়। অনেকে এটিকে ‘সিস্টেম রিসেট’ হিসেবে দেখলেও পরবর্তী বদলির ঘটনাগুলো একটি দীর্ঘমেয়াদি রদবদল চক্রের সূচনা নির্দেশ করে। এরপর ১০, ১২, ১৫ ও ২২ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন ধাপে নতুন ওসি পদায়ন করা হয়। বাকলিয়া, বন্দর, সদরঘাট, কোতোয়ালি, খুলশী, হালিশহর, চান্দগাঁও, চকবাজার, কর্ণফুলী, পাঁচলাইশ ও ইপিজেড থানায় নতুন মুখ আনা হলেও এই বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























