ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ধলেশ্বরী-বুড়িগঙ্গা নদীতে চলছে মাটি চুরির মহোৎসব, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৮:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ফতুল্লা থানার বুক চিরে বয়ে যাওয়া ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদী থেকে প্রকাশ্যে মাটি উত্তোলন করে স্থানীয় ইটভাটায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। গ্র্যাব ড্রেজার ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই মাটি উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে জানা গেছে।

বুড়িগঙ্গা নদীর ধর্মগঞ্জ মোহনা এবং ধলেশ্বরী নদীর বক্তাবলী ঘাট এলাকায় গ্র্যাব ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় লক্ষাধিক ফুট মাটি উত্তোলন করে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। যদিও নদী ড্রেজিং করার কোনো অনুমতি নেই, তবুও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং বক্তাবলী নৌ পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতাদের যোগসাজশে এই কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অপরিকল্পিতভাবে মাটি উত্তোলনের ফলে নদীর দুপাশে থাকা ফসলি জমি ও গ্রামগুলো ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলার কোন্ডা ইউনিয়ন বিএনপি এবং ফতুল্লা থানার বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা যৌথভাবে এই গ্র্যাব ড্রেজার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাদের মধ্যে বক্তাবলী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের, বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান, বক্তাবলী ৩নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল এবং সাবেক চেয়ারম্যান বাবুলের ছোট ভাই বিএনপি নেতা মাসুমের নেতৃত্বে ধলেশ্বরী নদীর মাটি কাটা হচ্ছে।

এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদুর রহমান বন্টিও জড়িত বলে জানা গেছে। তিনি বিগত সময়েও নদী থেকে মাটি চুরির ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করতেন। বর্তমানে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তিনি এই সিন্ডিকেট শক্তিশালী করেছেন। নদী থেকে মাটি তোলা থেকে শুরু করে ইটভাটায় বিক্রি পর্যন্ত তদারকির দায়িত্বে বন্টি রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে, বুড়িগঙ্গা নদীর ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ অংশে কোন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আনন্দবাজার এলাকার শাহজালাল, রতন, জাজিরা ইমরান এবং খইল্লারচর এলাকার সেলিম অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করছেন। এই সিন্ডিকেটের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, বিআইডব্লিউটিএ, নৌ পুলিশ এবং বিএনপির সিনিয়র নেতাদের ম্যানেজ করেই তারা ব্যবসা করছেন, তারপরও নানা রকম ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।

জানা গেছে, বুড়িগঙ্গা নদীর ধর্মগঞ্জ মোহনায় ১১টি এবং ধলেশ্বরী নদীর বক্তাবলী ঘাট এলাকায় ৪টি গ্র্যাব ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় লক্ষাধিক ফুট মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এই মাটি প্রতি ফুট ৮ টাকা দরে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে বিক্রি করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কূটনীতির মাধ্যমে ইসরাইল যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য হয়েছে: ইরানের প্রেসিডেন্ট

ধলেশ্বরী-বুড়িগঙ্গা নদীতে চলছে মাটি চুরির মহোৎসব, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:২৮:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

ফতুল্লা থানার বুক চিরে বয়ে যাওয়া ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদী থেকে প্রকাশ্যে মাটি উত্তোলন করে স্থানীয় ইটভাটায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। গ্র্যাব ড্রেজার ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই মাটি উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে জানা গেছে।

বুড়িগঙ্গা নদীর ধর্মগঞ্জ মোহনা এবং ধলেশ্বরী নদীর বক্তাবলী ঘাট এলাকায় গ্র্যাব ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় লক্ষাধিক ফুট মাটি উত্তোলন করে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। যদিও নদী ড্রেজিং করার কোনো অনুমতি নেই, তবুও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং বক্তাবলী নৌ পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতাদের যোগসাজশে এই কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অপরিকল্পিতভাবে মাটি উত্তোলনের ফলে নদীর দুপাশে থাকা ফসলি জমি ও গ্রামগুলো ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলার কোন্ডা ইউনিয়ন বিএনপি এবং ফতুল্লা থানার বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা যৌথভাবে এই গ্র্যাব ড্রেজার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাদের মধ্যে বক্তাবলী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের, বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান, বক্তাবলী ৩নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল এবং সাবেক চেয়ারম্যান বাবুলের ছোট ভাই বিএনপি নেতা মাসুমের নেতৃত্বে ধলেশ্বরী নদীর মাটি কাটা হচ্ছে।

এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদুর রহমান বন্টিও জড়িত বলে জানা গেছে। তিনি বিগত সময়েও নদী থেকে মাটি চুরির ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করতেন। বর্তমানে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তিনি এই সিন্ডিকেট শক্তিশালী করেছেন। নদী থেকে মাটি তোলা থেকে শুরু করে ইটভাটায় বিক্রি পর্যন্ত তদারকির দায়িত্বে বন্টি রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে, বুড়িগঙ্গা নদীর ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ অংশে কোন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আনন্দবাজার এলাকার শাহজালাল, রতন, জাজিরা ইমরান এবং খইল্লারচর এলাকার সেলিম অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করছেন। এই সিন্ডিকেটের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, বিআইডব্লিউটিএ, নৌ পুলিশ এবং বিএনপির সিনিয়র নেতাদের ম্যানেজ করেই তারা ব্যবসা করছেন, তারপরও নানা রকম ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।

জানা গেছে, বুড়িগঙ্গা নদীর ধর্মগঞ্জ মোহনায় ১১টি এবং ধলেশ্বরী নদীর বক্তাবলী ঘাট এলাকায় ৪টি গ্র্যাব ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় লক্ষাধিক ফুট মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এই মাটি প্রতি ফুট ৮ টাকা দরে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে বিক্রি করা হয়।