ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষা বোর্ড ও বছরভেদে তারতম্য: যৌক্তিকতা কতটুকু?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২০:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নকলমুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বেশ কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অতীতে নকলের অভিশাপ থেকে পাবলিক পরীক্ষাগুলোকে মুক্ত করতে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। পরবর্তীতে কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপের কারণে শিক্ষাব্যবস্থা যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল, তা নিরসনে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

আশার কথা, এবার সরকার পাবলিক পরীক্ষাগুলো আরও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং পরীক্ষা পরিচালনায় যথাযথ মান ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে, হঠাৎ করে কোনো বাস্তব পরিস্থিতি আমলে না নিয়ে পরিবর্তন আনা হলে কিছু পরীক্ষার্থীর প্রতি অন্যায় হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং চাকরির ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার গ্রেড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করাই কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব শেষ নয়।

সারা দেশে ১১টি শিক্ষা বোর্ড রয়েছে। প্রশ্নপত্রের মান এবং খাতা মূল্যায়নের নীতিতে ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের পাসের হারে যে ব্যাপক তারতম্য দেখা যায়, তা কমিয়ে আনা প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারা দেশের ১১টি বোর্ডের গড় পাসের হার ছিল ৫৮.৮৩ শতাংশ। মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড বাদে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার ছিল সর্বোচ্চ (৬৪.৬২ শতাংশ), আর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার ছিল সর্বনিম্ন (৪৮.৮৬ শতাংশ)। অন্যদিকে, কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬২.৬৭ শতাংশ এবং মাদরাসা বোর্ডে ৭৫.৬১ শতাংশ। এই পার্থক্যগুলো শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই এবং ভবিষ্যৎ সুযোগের ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষা বোর্ড ও বছরভেদে তারতম্য: যৌক্তিকতা কতটুকু?

আপডেট সময় : ১০:২০:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নকলমুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বেশ কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অতীতে নকলের অভিশাপ থেকে পাবলিক পরীক্ষাগুলোকে মুক্ত করতে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। পরবর্তীতে কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপের কারণে শিক্ষাব্যবস্থা যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল, তা নিরসনে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

আশার কথা, এবার সরকার পাবলিক পরীক্ষাগুলো আরও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং পরীক্ষা পরিচালনায় যথাযথ মান ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে, হঠাৎ করে কোনো বাস্তব পরিস্থিতি আমলে না নিয়ে পরিবর্তন আনা হলে কিছু পরীক্ষার্থীর প্রতি অন্যায় হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং চাকরির ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার গ্রেড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করাই কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব শেষ নয়।

সারা দেশে ১১টি শিক্ষা বোর্ড রয়েছে। প্রশ্নপত্রের মান এবং খাতা মূল্যায়নের নীতিতে ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের পাসের হারে যে ব্যাপক তারতম্য দেখা যায়, তা কমিয়ে আনা প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারা দেশের ১১টি বোর্ডের গড় পাসের হার ছিল ৫৮.৮৩ শতাংশ। মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড বাদে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার ছিল সর্বোচ্চ (৬৪.৬২ শতাংশ), আর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার ছিল সর্বনিম্ন (৪৮.৮৬ শতাংশ)। অন্যদিকে, কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬২.৬৭ শতাংশ এবং মাদরাসা বোর্ডে ৭৫.৬১ শতাংশ। এই পার্থক্যগুলো শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই এবং ভবিষ্যৎ সুযোগের ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করতে পারে।