ঢাকা ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য সরকারি বেতন কাঠামো চালু

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। সোমবার সকালে নিজ কার্যালয়ে এই বিশেষ ক্রীড়াভাতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন খেলার জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা এখন থেকে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে বেতন পাবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ‘ক্রীড়া কার্ড’ প্রদান করা হয় এবং সরকার আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই সংখ্যা ৫০০ জনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ক্রীড়াভাতা প্রদানের পাশাপাশি গত এক বছরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও দলগত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এক থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কারে ভূষিত করেন সরকার প্রধান।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নারী ফুটবলের জন্য একটি ডেডিকেটেড ফুটসাল মাঠের দাবি জানান। সাবিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দুবার সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি সাফ ফুটসালে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। সাবিনা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্দেশ্যে বলেন যে বাংলাদেশে ভালো কোনো ফুটসাল গ্রাউন্ড নেই এবং নারী ফুটবলারদের উন্নতির জন্য একটি উন্নত মানের মাঠের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। সাবিনার এই দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সাবিনাকে আশ্বস্ত করে বলেন যে মাঠ তৈরির প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং কাজের অগ্রগতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা দেন যে মেয়েদের অনুশীলনের জন্য মাঠ নির্বাচনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত এবং এটি ‘অলমোস্ট ডান’।

অনুষ্ঠানে ফুটবল ও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ফেডারেশনের কর্মকর্তা ও সংগঠকদের উপস্থিতিতে সাবিনা খাতুন অনুরোধ করেন যেন তারা সবসময় খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধার দিকে বিশেষ নজর রাখেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে সঠিক তদারকি ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বড় সাফল্য বয়ে আনতে সক্ষম হবেন। বর্তমান সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত এবং প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে যা পেশাদার খেলোয়াড়দের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই বেতন কাঠামো চালুর ফলে এখন থেকে খেলোয়াড়রা কেবল খেলাধুলাতেই পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবেন যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের ক্রীড়া মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

আজকের ক্রীড়াঙ্গনে উত্তেজনার পারদ: পিএসএল ও ম্যানইউ-লিডসের মহারণ

জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য সরকারি বেতন কাঠামো চালু

আপডেট সময় : ০২:১৯:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। সোমবার সকালে নিজ কার্যালয়ে এই বিশেষ ক্রীড়াভাতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন খেলার জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা এখন থেকে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে বেতন পাবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ‘ক্রীড়া কার্ড’ প্রদান করা হয় এবং সরকার আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই সংখ্যা ৫০০ জনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ক্রীড়াভাতা প্রদানের পাশাপাশি গত এক বছরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও দলগত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এক থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কারে ভূষিত করেন সরকার প্রধান।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নারী ফুটবলের জন্য একটি ডেডিকেটেড ফুটসাল মাঠের দাবি জানান। সাবিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দুবার সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি সাফ ফুটসালে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। সাবিনা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্দেশ্যে বলেন যে বাংলাদেশে ভালো কোনো ফুটসাল গ্রাউন্ড নেই এবং নারী ফুটবলারদের উন্নতির জন্য একটি উন্নত মানের মাঠের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। সাবিনার এই দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সাবিনাকে আশ্বস্ত করে বলেন যে মাঠ তৈরির প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং কাজের অগ্রগতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা দেন যে মেয়েদের অনুশীলনের জন্য মাঠ নির্বাচনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত এবং এটি ‘অলমোস্ট ডান’।

অনুষ্ঠানে ফুটবল ও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ফেডারেশনের কর্মকর্তা ও সংগঠকদের উপস্থিতিতে সাবিনা খাতুন অনুরোধ করেন যেন তারা সবসময় খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধার দিকে বিশেষ নজর রাখেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে সঠিক তদারকি ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বড় সাফল্য বয়ে আনতে সক্ষম হবেন। বর্তমান সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত এবং প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে যা পেশাদার খেলোয়াড়দের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই বেতন কাঠামো চালুর ফলে এখন থেকে খেলোয়াড়রা কেবল খেলাধুলাতেই পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবেন যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের ক্রীড়া মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।