ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর: টেঁটাযুদ্ধের স্মৃতি আর গ্রামের টান

নিজের গ্রামের প্রতি ভালোবাসা ও নাড়ির টান প্রতিটি মানুষেরই সহজাত। তাই ঈদের মতো উৎসবগুলোতে নগরবাসী গ্রামে ফেরার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসব পালন এবং দুচোখ ভরে নিজ গ্রামকে দেখার জন্য তারা আগে থেকেই ছটফট করতে থাকেন। বাস, ট্রেন, লঞ্চের উপচে পড়া ভিড়, অস্বাভাবিক ভাড়া, দুর্ঘটনা—নানা ঝক্কি-ঝামেলা উপেক্ষা করে তারা বাড়ি ফেরেন। এবারও ঈদ উপলক্ষে গ্রামে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। এত কিছুর পরও মানুষ গ্রামে গেছেন এবং ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে এসেছেন। এই আসা-যাওয়া চলতেই থাকবে।

এবার ঈদের পরদিন আমার জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে গিয়েছিলাম। আমাদের আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এমএ হান্নানের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমাকে সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এই আসনে এবারই প্রথম বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে জয়লাভ করেছে। আমি আমার শৈশব থেকে দেখে এসেছি, এই আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার জয়জয়কার ছিল, এবারই ব্যতিক্রম। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অনেকেই চেয়েছিলেন আমি যেন গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিই। এছাড়া শৈশবের গ্রামকে আবার দেখতে পাব, এই ভাবনাও আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। অনুষ্ঠান ছিল বিকেলে। ভোরবেলা ঢাকা থেকে স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের উদ্দেশে রওনা হই। নাসিরনগরে যাওয়ার কথা জেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের অধ্যাপক ড. হাফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া, যিনি ঢাকার নাসিরনগর সমিতির সভাপতি, তিনি আমাকে তার গ্রামের বাড়িটি দেখে যাওয়ার এবং সেখানে দুপুরের খাবারের দাওয়াত দেন। বারবার অপারগতা জানানো সত্ত্বেও তিনি আমাকে নিবৃত্ত করতে পারেননি। তার কুন্ডা গ্রাম নাসিরনগর যাওয়ার পথেই পড়ে। সরাইল থেকে যে রাস্তা নাসিরনগর গিয়েছে, সেই পথেই আমি এগোচ্ছিলাম। ধরন্তি থেকে উত্তর-পশ্চিম কোণে চোখে পড়ছে শিউলি ভাবির জয়দরকান্দা গ্রামের টিনের ঘরের চাল, যা রোদে ঝিকমিক করছে। রাস্তার পাশেই কুন্ডা গ্রাম। একসময় ধরন্তি থেকে নাসিরনগর পর্যন্ত এই সড়কটি চীনের হুয়াংহু নদীর মতোই আমাদের জন্য ছিল দুঃখের কারণ। তিতাস নদী ও ধরন্তি হাওরের ঢেউয়ের কারণে রাস্তা নির্মাণ করা ছিল অত্যন্ত দুঃসাধ্য। ফলে এই এলাকার মানুষকে শুকনো মৌসুমে হেঁটে আসা-যাওয়া করতে হতো। বর্ষাকালে অবশ্য নৌকায় যাতায়াত ছিল আনন্দদায়ক। ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার মেয়াদের শেষের দিকে তিনি একবার নাসিরনগরে জনসভা করেছিলেন। আমি তার উপ-প্রেসসচিব হিসেবে সেই জনসভায় গিয়েছিলাম। ত…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘দম’ জয় করছে আমেরিকা, ‘প্রেশার কুকার’ যাচ্ছে লন্ডনে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর: টেঁটাযুদ্ধের স্মৃতি আর গ্রামের টান

আপডেট সময় : ১১:৩৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

নিজের গ্রামের প্রতি ভালোবাসা ও নাড়ির টান প্রতিটি মানুষেরই সহজাত। তাই ঈদের মতো উৎসবগুলোতে নগরবাসী গ্রামে ফেরার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসব পালন এবং দুচোখ ভরে নিজ গ্রামকে দেখার জন্য তারা আগে থেকেই ছটফট করতে থাকেন। বাস, ট্রেন, লঞ্চের উপচে পড়া ভিড়, অস্বাভাবিক ভাড়া, দুর্ঘটনা—নানা ঝক্কি-ঝামেলা উপেক্ষা করে তারা বাড়ি ফেরেন। এবারও ঈদ উপলক্ষে গ্রামে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। এত কিছুর পরও মানুষ গ্রামে গেছেন এবং ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে এসেছেন। এই আসা-যাওয়া চলতেই থাকবে।

এবার ঈদের পরদিন আমার জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে গিয়েছিলাম। আমাদের আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এমএ হান্নানের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমাকে সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এই আসনে এবারই প্রথম বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে জয়লাভ করেছে। আমি আমার শৈশব থেকে দেখে এসেছি, এই আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার জয়জয়কার ছিল, এবারই ব্যতিক্রম। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অনেকেই চেয়েছিলেন আমি যেন গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিই। এছাড়া শৈশবের গ্রামকে আবার দেখতে পাব, এই ভাবনাও আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। অনুষ্ঠান ছিল বিকেলে। ভোরবেলা ঢাকা থেকে স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের উদ্দেশে রওনা হই। নাসিরনগরে যাওয়ার কথা জেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের অধ্যাপক ড. হাফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া, যিনি ঢাকার নাসিরনগর সমিতির সভাপতি, তিনি আমাকে তার গ্রামের বাড়িটি দেখে যাওয়ার এবং সেখানে দুপুরের খাবারের দাওয়াত দেন। বারবার অপারগতা জানানো সত্ত্বেও তিনি আমাকে নিবৃত্ত করতে পারেননি। তার কুন্ডা গ্রাম নাসিরনগর যাওয়ার পথেই পড়ে। সরাইল থেকে যে রাস্তা নাসিরনগর গিয়েছে, সেই পথেই আমি এগোচ্ছিলাম। ধরন্তি থেকে উত্তর-পশ্চিম কোণে চোখে পড়ছে শিউলি ভাবির জয়দরকান্দা গ্রামের টিনের ঘরের চাল, যা রোদে ঝিকমিক করছে। রাস্তার পাশেই কুন্ডা গ্রাম। একসময় ধরন্তি থেকে নাসিরনগর পর্যন্ত এই সড়কটি চীনের হুয়াংহু নদীর মতোই আমাদের জন্য ছিল দুঃখের কারণ। তিতাস নদী ও ধরন্তি হাওরের ঢেউয়ের কারণে রাস্তা নির্মাণ করা ছিল অত্যন্ত দুঃসাধ্য। ফলে এই এলাকার মানুষকে শুকনো মৌসুমে হেঁটে আসা-যাওয়া করতে হতো। বর্ষাকালে অবশ্য নৌকায় যাতায়াত ছিল আনন্দদায়ক। ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার মেয়াদের শেষের দিকে তিনি একবার নাসিরনগরে জনসভা করেছিলেন। আমি তার উপ-প্রেসসচিব হিসেবে সেই জনসভায় গিয়েছিলাম। ত…