মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের ঘনঘটা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হাজার হাজার সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। ইরানি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘তেহরান টাইমস’ মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হওয়া মার্কিন সেনাদের সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে— ‘ওয়েলকাম টু হেল’ (নরকে স্বাগতম)।
ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি: তেহরান টাইমসের প্রতিবেদনে মার্কিন সেনাদের একটি ছবি ব্যবহার করে লেখা হয়েছে, যারা ইরানের মাটিতে পা রাখার দুঃসাহস দেখাবে, তারা জীবন্ত ফিরতে পারবে না; বরং তাদের ফিরতে হবে ‘কফিনে’ করে। মার্কিন সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রেক্ষিতে দেওয়া এই কঠোর বার্তাটি তেহরানের অনড় অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন সমরসজ্জা: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) নিশ্চিত করেছে যে, সাড়ে তিন হাজার নাবিক ও মেরিন সেনাকে বহনকারী শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। পেন্টাগন এখন তাদের পরবর্তী রণকৌশল বিবেচনা করছে। এর পাশাপাশি ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কূটনীতির বাইরে আরও জোরালো সামরিক বিকল্প দেওয়ার জন্য পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজার পর্যন্ত অতিরিক্ত স্থলসেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে।
লক্ষ্যবস্তু যখন খারগ দ্বীপ: নতুন করে আসা এই বিশাল সেনাবহরকে ঠিক কোথায় মোতায়েন করা হবে তা এখনো দাপ্তরিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে গোয়েন্দা সূত্র ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি, এই সেনারা ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’-এর খুব কাছাকাছি অবস্থান নেবে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটি আক্রান্ত হলে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের উদ্বেগ: ২০২৬ সালের শুরু থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে যেকোনো সময় একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। একদিকে মার্কিন শক্তির প্রদর্শন এবং অন্যদিকে ইরানের ‘নরকে স্বাগতম’ জানানোর মতো মারমুখী প্রচারযুদ্ধ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















