হলিউডে বর্তমান সময়ে অন্তরঙ্গ বা সংবেদনশীল দৃশ্যের শুটিংয়ে অভিনয়শিল্পীদের নিরাপত্তা ও সম্মতি নিশ্চিত করতে ‘ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর’ (Intimacy Coordinator) নিয়োগ একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ‘মিটু’ আন্দোলনের পর এই পেশার গুরুত্ব বাড়লেও, সব তারকা এই ব্যবস্থার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। সম্প্রতি ব্রিটিশ অভিনেত্রী রেবেকা ফার্গুসন জানিয়েছেন, শুটিং সেটে এমন মধ্যস্থতাকারীর উপস্থিতির চেয়ে তিনি নিজেই নিজের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে বেশি পছন্দ করেন।

রেবেকা ফার্গুসনের ভিন্নমত
এক সাক্ষাৎকারে রেবেকা ফার্গুসন স্পষ্টভাবে জানান, শুটিং সেটে ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটরের উপস্থিতি তাঁর কাছে মাঝে মাঝে ‘খুবই অস্বস্তিকর’ মনে হয়। তাঁর মতে, তিনি একজন পরিণত অভিনেত্রী হিসেবে নিজের ভালো-লাগা বা মন্দ-লাগার সীমারেখা নিজেই নির্ধারণ করতে পারেন। রেবেকা বলেন, “আমি নিজেই বলতে পারি আমার কী দরকার। অন্য কেউ আমার হয়ে আমার স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বলে দেবে, এটা সব সময় স্বাভাবিক লাগে না।” তিনি মনে করেন, শুটিংয়ের আগে সরাসরি সহ-অভিনেতার সঙ্গে আলোচনা করে নিলেই নিরাপত্তা ও সংবেদনশীলতার বিষয়গুলো সবচেয়ে সুন্দরভাবে সমাধান করা সম্ভব।

কিলিয়ান মার্ফির সঙ্গে অভিজ্ঞতা
জনপ্রিয় সিরিজ ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’-এর আসন্ন চলচ্চিত্র সংস্করণ ‘দ্য ইমমোরটাল ম্যান’-এ অস্কারজয়ী অভিনেতা কিলিয়ান মার্ফির সঙ্গে কাজ করেছেন রেবেকা। সেখানে কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি জানান, দৃশ্যটি করার আগে তিনি নিজেই মার্ফির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে নিয়েছিলেন। এমনকি মজার ছলে রেবেকা বলেন, তিনি আগে থেকেই কিলিয়ান মার্ফির পুরনো সিনেমার অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলো ‘স্টাডি’ করেছিলেন যাতে শুটিংয়ের সময় কাজের রসায়ন ও টেকনিক ঠিক থাকে।

হলিউড তারকাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
বিষয়টি নিয়ে হলিউডে বিতর্ক বেশ পুরোনো। অস্কারজয়ী জেনিফার লরেন্সও এর আগে বলেছিলেন যে, সহ-অভিনেতা নির্ভরযোগ্য হলে কো-অর্ডিনেটর ছাড়াই কাজ করা যায়। অন্যদিকে ফ্লোরেন্স পিউ বা গিনেথ প্যালট্রোর মতো তারকারাও মাঝেমধ্যে এই ব্যবস্থাকে অভিনয়ের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা হিসেবে দেখেন। তবে সবাই একমত যে, নতুন বা তরুণ অভিনয়শিল্পীদের জন্য এই ব্যবস্থাটি একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা কবচ হিসেবে কাজ করে।
ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটরের গুরুত্ব কেন?
বিতর্ক থাকলেও বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস করতে রাজি নয়। কো-অর্ডিনেটরদের প্রধান কাজ হলো:
- অভিনয়শিল্পীদের স্পষ্ট সম্মতি (Consent) নিশ্চিত করা।
- শুটিংয়ের আগে দৃশ্যের কোরিওগ্রাফি বা চালচলন নির্দিষ্ট করা।
- সেটে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ বা আচরণ রোধ করা।
- সংবেদনশীল মুহূর্তে শিল্পীদের মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষা দেওয়া।
রেবেকা ফার্গুসনের মতো অভিজ্ঞদের কাছে এটি ‘অতিরঞ্জিত’ মনে হলেও, সামগ্রিকভাবে হলিউড এখন অভিনয়ের আবেগ এবং শিল্পীর নিরাপত্তা—এই দুয়ের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। রেবেকার বক্তব্য প্রমাণ করে যে, ডিজিটাল ও আধুনিক এই যুগেও পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে সরাসরি যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাস অনেক সময় সব প্রোটোকলের চেয়ে বেশি কার্যকর।
রিপোর্টারের নাম 

























