ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

‘ফ্রি প্যালেস্টাইন লিখতে পারব না যে দেশে, সেখানে যাওয়ার দরকার নেই’: অনড় ইব্রাহিম আহমেদ কমল

বাংলাদেশের হেভি মেটাল সংগীতের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব এবং ‘ওয়ারফেজ’ ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইব্রাহিম আহমেদ কমল আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কনসার্ট করতে যাওয়া নিয়ে নিজের কঠোর ও নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। ২০২৪ সালে ব্যান্ডের ‘ফোরটি ইয়ার্স লিগ্যাসি কনসার্ট ট্যুর’-এ তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে ভক্তদের মনে অনেক প্রশ্ন থাকলেও, এবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর পেছনের প্রকৃত কারণ তুলে ধরেছেন।

কমলের দাবি, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে এবং ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার কারণেই মার্কিন দূতাবাস তাঁর ভিসার আবেদন বাতিল করে দিয়েছিল। আসন্ন ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন (সামার) ট্যুরেও ওয়ারফেজ যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে কমল সেখানে যাওয়ার বিষয়ে একদমই আগ্রহী নন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “যে দেশে যাওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্রি প্যালেস্টাইন লিখতে পারব না, সেই দেশে আমার যাওয়ার দরকার নেই।”

মিনেসোটার সেই দুঃসহ স্মৃতি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কমলের সম্পর্ক কেবল সংগীতের নয়, বরং গভীর ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির। নব্বই দশকে তিনি মিনেসোটায় পড়াশোনা করতেন। ১৯৯৭ সালের ১১ আগস্ট এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি তাঁর একমাত্র ছোট ভাই আহমেদ ইসাক আবদুল্লাহ কনককে হারান। সেই স্মৃতি চারণ করে কমল লিখেছেন, “একজন আমেরিকান শ্বেতাঙ্গ মানুষের ভুলের কারণে আমার ভাই মারা যায়। আমাদের পরিবার পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। ১৯৯৮ সালে আমি আমেরিকা থেকে চিরতরে চলে আসি, এরপর আর কখনো যেতে চাইনি।”

ভিসা জটিলতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালে ব্যান্ডের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনিচ্ছাসত্ত্বেও ভিসার আবেদন করেছিলেন তিনি, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যাত হয়। কমল মনে করেন, বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো নেই। মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতার প্রশ্নে দেশটির দ্বিমুখী আচরণের কারণে তিনি এখন আর সেখানে পারফর্ম করাকে কোনো ‘অর্জন’ মনে করেন না। তাঁর মতে, “আমার সংগীত শুধু বাংলাদেশি এবং বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য। কখনো বিশ্ব জয়ের ইচ্ছা হয়নি, সত্যকে সত্য বলব।”

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে গাজার পক্ষে সরব হওয়ার কারণে ওয়ারফেজ ব্যান্ডটি মার্কিন প্রশাসনের নজরে এসেছিল—এমন একটি খবরের রেশ ধরেই কমলের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কমল স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি দেশের মাটিতেই থাকতে চান এবং মানবতার পক্ষে কথা বলা চালিয়ে যাবেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

‘ফ্রি প্যালেস্টাইন লিখতে পারব না যে দেশে, সেখানে যাওয়ার দরকার নেই’: অনড় ইব্রাহিম আহমেদ কমল

আপডেট সময় : ১২:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের হেভি মেটাল সংগীতের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব এবং ‘ওয়ারফেজ’ ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইব্রাহিম আহমেদ কমল আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কনসার্ট করতে যাওয়া নিয়ে নিজের কঠোর ও নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। ২০২৪ সালে ব্যান্ডের ‘ফোরটি ইয়ার্স লিগ্যাসি কনসার্ট ট্যুর’-এ তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে ভক্তদের মনে অনেক প্রশ্ন থাকলেও, এবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর পেছনের প্রকৃত কারণ তুলে ধরেছেন।

কমলের দাবি, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে এবং ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার কারণেই মার্কিন দূতাবাস তাঁর ভিসার আবেদন বাতিল করে দিয়েছিল। আসন্ন ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন (সামার) ট্যুরেও ওয়ারফেজ যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে কমল সেখানে যাওয়ার বিষয়ে একদমই আগ্রহী নন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “যে দেশে যাওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্রি প্যালেস্টাইন লিখতে পারব না, সেই দেশে আমার যাওয়ার দরকার নেই।”

মিনেসোটার সেই দুঃসহ স্মৃতি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কমলের সম্পর্ক কেবল সংগীতের নয়, বরং গভীর ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির। নব্বই দশকে তিনি মিনেসোটায় পড়াশোনা করতেন। ১৯৯৭ সালের ১১ আগস্ট এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি তাঁর একমাত্র ছোট ভাই আহমেদ ইসাক আবদুল্লাহ কনককে হারান। সেই স্মৃতি চারণ করে কমল লিখেছেন, “একজন আমেরিকান শ্বেতাঙ্গ মানুষের ভুলের কারণে আমার ভাই মারা যায়। আমাদের পরিবার পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। ১৯৯৮ সালে আমি আমেরিকা থেকে চিরতরে চলে আসি, এরপর আর কখনো যেতে চাইনি।”

ভিসা জটিলতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালে ব্যান্ডের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনিচ্ছাসত্ত্বেও ভিসার আবেদন করেছিলেন তিনি, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যাত হয়। কমল মনে করেন, বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো নেই। মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতার প্রশ্নে দেশটির দ্বিমুখী আচরণের কারণে তিনি এখন আর সেখানে পারফর্ম করাকে কোনো ‘অর্জন’ মনে করেন না। তাঁর মতে, “আমার সংগীত শুধু বাংলাদেশি এবং বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য। কখনো বিশ্ব জয়ের ইচ্ছা হয়নি, সত্যকে সত্য বলব।”

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে গাজার পক্ষে সরব হওয়ার কারণে ওয়ারফেজ ব্যান্ডটি মার্কিন প্রশাসনের নজরে এসেছিল—এমন একটি খবরের রেশ ধরেই কমলের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কমল স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি দেশের মাটিতেই থাকতে চান এবং মানবতার পক্ষে কথা বলা চালিয়ে যাবেন।