ঢাকা ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

গরু লুটে বাধা দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি, মৃত সন্তান প্রসব

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় গরু লুটের চেষ্টা চলাকালীন বাধা দেওয়ায় নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এই নির্মম ঘটনার জেরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ওই নারী মৃত কন্যা সন্তান প্রসব করেছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (রাত) গভীর রাতে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের হাটনাইয়া আলীপুর গ্রামে ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন শুক্রবার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী রোকেয়া আক্তার (৩৮) একই গ্রামের ওলিউল্লার স্ত্রী। জানা যায়, আগামী ১৫ এপ্রিল তার স্বাভাবিক প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিল।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ওলিউল্লার ভাতিজা আবুল বাশার বাদী হয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় একই গ্রামের আংগুর মিয়া, রফিকুল ইসলাম, তরিকুল মিয়া, আনসার মিয়া ও মজিবর মিয়া সহ নয় জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বের একটি বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আংগুর মিয়ার নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল ওলিউল্লার বাড়িতে হামলা চালায় এবং গোয়ালঘর থেকে গরু লুটের চেষ্টা করে। এ সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য উপস্থিত না থাকায় অন্তঃসত্ত্বা রোকেয়া আক্তার বাধা দিতে গেলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার পেটে লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরে রোকেয়ার পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হলে তিনি চিৎকার করতে থাকেন। স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর তিনি একটি মৃত কন্যা সন্তান প্রসব করেন। এরপর তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগীর স্বামী ওলিউল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। গরু লুট করতে এসে বাধা দেওয়ায় তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ওপর এমন নির্যাতন চালানো হয়েছে, যার ফলে গর্ভের সন্তানটি মারা গেছে।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আংগুর মিয়া। তিনি দাবি করেন, পূর্বের একটি ঘটনার জেরে তাকে ফাঁসানোর জন্য এই অভিযোগ সাজানো হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুন মিয়া জানান, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। দুই পক্ষই ভিন্ন ভিন্ন দাবি করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪৮ দিন পর হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’

গরু লুটে বাধা দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি, মৃত সন্তান প্রসব

আপডেট সময় : ০৭:৫১:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় গরু লুটের চেষ্টা চলাকালীন বাধা দেওয়ায় নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এই নির্মম ঘটনার জেরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ওই নারী মৃত কন্যা সন্তান প্রসব করেছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (রাত) গভীর রাতে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের হাটনাইয়া আলীপুর গ্রামে ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন শুক্রবার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী রোকেয়া আক্তার (৩৮) একই গ্রামের ওলিউল্লার স্ত্রী। জানা যায়, আগামী ১৫ এপ্রিল তার স্বাভাবিক প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিল।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ওলিউল্লার ভাতিজা আবুল বাশার বাদী হয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় একই গ্রামের আংগুর মিয়া, রফিকুল ইসলাম, তরিকুল মিয়া, আনসার মিয়া ও মজিবর মিয়া সহ নয় জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বের একটি বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আংগুর মিয়ার নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল ওলিউল্লার বাড়িতে হামলা চালায় এবং গোয়ালঘর থেকে গরু লুটের চেষ্টা করে। এ সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য উপস্থিত না থাকায় অন্তঃসত্ত্বা রোকেয়া আক্তার বাধা দিতে গেলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার পেটে লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরে রোকেয়ার পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হলে তিনি চিৎকার করতে থাকেন। স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর তিনি একটি মৃত কন্যা সন্তান প্রসব করেন। এরপর তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগীর স্বামী ওলিউল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। গরু লুট করতে এসে বাধা দেওয়ায় তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ওপর এমন নির্যাতন চালানো হয়েছে, যার ফলে গর্ভের সন্তানটি মারা গেছে।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আংগুর মিয়া। তিনি দাবি করেন, পূর্বের একটি ঘটনার জেরে তাকে ফাঁসানোর জন্য এই অভিযোগ সাজানো হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুন মিয়া জানান, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। দুই পক্ষই ভিন্ন ভিন্ন দাবি করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।