ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

অপরিশোধিত তেলের সংকটে দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় গভীর সংকটে পড়েছে দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির হাতে মাত্র ৪০ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের মজুত রয়েছে, যা দিয়ে বড়জোর আগামী ১০ থেকে ১২ দিন পরিশোধন কার্যক্রম চালানো সম্ভব। প্রতিদিন সাড়ে ৪ হাজার টন পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও সংকটের কারণে বর্তমানে দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ টন করে তেল পরিশোধন করা হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ইরান সম্প্রতি বাংলাদেশসহ ছয়টি ‘বন্ধুরাষ্ট্রের’ জাহাজ চলাচলে অভয় দিয়েছে, কিন্তু জাহাজ শিডিউল বিপর্যয় ও যুদ্ধের আশঙ্কায় আমদানি প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্র জানিয়েছে, এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি মাদার ভেসেল (এমটি নর্ডিক পলাঙ) গত ২ মার্চ সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেটি এখনো বন্দরেই আটকা পড়ে আছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে গত ২১ মার্চ আরও এক লাখ টন তেল নিয়ে অন্য একটি জাহাজের রওনা দেওয়ার কথা থাকলেও সেই শিডিউলটি বাতিল করা হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২১ এপ্রিল সৌদি আরবের একটি বন্দর থেকে তেল লোড করার কথা রয়েছে, যা মে মাসের শুরুতে দেশে পৌঁছাতে পারে। তবে সেই সময় পর্যন্ত শোধনাগারটির উৎপাদন সচল রাখা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

১৯৬৮ সালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রতিষ্ঠিত এই শোধনাগারটি ডিজেল, পেট্রল, ফার্নেস অয়েল, এলপিজি, জেট ফুয়েল ও বিটুমিন উৎপাদনের প্রধান উৎস। প্রতিষ্ঠানটির উপ-মহাব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বর্তমান সংকটের কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে তেলবাহী জাহাজ আসতে দেরি হওয়ায় এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার মালয়েশিয়া ও নাইজেরিয়ার মতো বিকল্প দেশগুলো থেকে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল কেনার জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ থেকে তেলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে এবং আমদানির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। তবে বিকল্প এই উৎসগুলো থেকে তেল দেশে পৌঁছাতে আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন: মাটির নিচে অত্যাধুনিক বাংকার ও টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা

অপরিশোধিত তেলের সংকটে দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার

আপডেট সময় : ১০:০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় গভীর সংকটে পড়েছে দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির হাতে মাত্র ৪০ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের মজুত রয়েছে, যা দিয়ে বড়জোর আগামী ১০ থেকে ১২ দিন পরিশোধন কার্যক্রম চালানো সম্ভব। প্রতিদিন সাড়ে ৪ হাজার টন পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও সংকটের কারণে বর্তমানে দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ টন করে তেল পরিশোধন করা হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ইরান সম্প্রতি বাংলাদেশসহ ছয়টি ‘বন্ধুরাষ্ট্রের’ জাহাজ চলাচলে অভয় দিয়েছে, কিন্তু জাহাজ শিডিউল বিপর্যয় ও যুদ্ধের আশঙ্কায় আমদানি প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্র জানিয়েছে, এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি মাদার ভেসেল (এমটি নর্ডিক পলাঙ) গত ২ মার্চ সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেটি এখনো বন্দরেই আটকা পড়ে আছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে গত ২১ মার্চ আরও এক লাখ টন তেল নিয়ে অন্য একটি জাহাজের রওনা দেওয়ার কথা থাকলেও সেই শিডিউলটি বাতিল করা হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২১ এপ্রিল সৌদি আরবের একটি বন্দর থেকে তেল লোড করার কথা রয়েছে, যা মে মাসের শুরুতে দেশে পৌঁছাতে পারে। তবে সেই সময় পর্যন্ত শোধনাগারটির উৎপাদন সচল রাখা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

১৯৬৮ সালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রতিষ্ঠিত এই শোধনাগারটি ডিজেল, পেট্রল, ফার্নেস অয়েল, এলপিজি, জেট ফুয়েল ও বিটুমিন উৎপাদনের প্রধান উৎস। প্রতিষ্ঠানটির উপ-মহাব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বর্তমান সংকটের কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে তেলবাহী জাহাজ আসতে দেরি হওয়ায় এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার মালয়েশিয়া ও নাইজেরিয়ার মতো বিকল্প দেশগুলো থেকে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল কেনার জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ থেকে তেলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে এবং আমদানির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। তবে বিকল্প এই উৎসগুলো থেকে তেল দেশে পৌঁছাতে আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।