বিশ্বের ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু হলো পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি। এই সংকীর্ণ জলপথটি কেবল একটি ভৌগোলিক রেখা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার প্রধান ধমনি। বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় এক-চতুর্থাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের সামরিক অস্থিরতা বা অবরোধ সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায়।
ভৌগোলিকভাবে সংঘাতস্থল থেকে অনেক দূরে হলেও বাংলাদেশ এই সংকটের প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি দেশের পরিবহন খাত, শিল্প উৎপাদন এবং কৃষি ব্যবস্থায় আঘাত হানে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি হয়। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়কার ‘ট্যাংকার যুদ্ধ’ বিশ্ব অর্থনীতিকে যেভাবে অস্থিতিশীল করেছিল, বর্তমান উত্তেজনাও ঠিক একই ধরনের শঙ্কা তৈরি করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে চলমান অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি ‘স্ট্যাগফ্লেশন’-এর মতো ভয়াবহ সংকটে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে যায়, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে পণ্যের দাম। এই সংকট কেবল জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বৈশ্বিক আর্থিক বাজার ও সামগ্রিক বাণিজ্য কাঠামোর ওপর বহুমাত্রিক ঝুঁকি তৈরি করছে।
রিপোর্টারের নাম 

























