ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

হাদি হত্যায় অভিযুক্ত বাংলাদেশি, ১১ দিনের রিমান্ডে, নাশকতার ছায়া দেখছে ভারত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত দুই বাংলাদেশিকে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) ১১ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ট্রানজিট রিমান্ডে তাদের দিল্লিতে আনা হয়। মঙ্গলবার তাদের নয়াদিল্লির একটি বিশেষ এনআইএ আদালতে হাজির করা হয়। অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা অবৈধভাবে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টার সময় বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়।

গত ২৪ মার্চ পাতিয়ালা হাউস কোর্টের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রশান্ত শর্মা তাদের ১১ দিনের জন্য এনআইএ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। শুনানির সময় এনআইএ আদালতকে জানায় যে চলতি মাসের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাদের গ্রেপ্তার করে। এনআইএ-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, অভিযুক্তরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করায় এর পেছনে বৃহত্তর কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে আদালত মনে করে এবং এই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় অটোরিকশায় ভ্রমণকালে শরীফ ওসমান বিন হাদি গুলিতে নিহত হন। এই ঘটনায় ইতোমধ্যে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে একটি চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড কেবল একটি সাধারণ অপরাধ নয়, এর পেছনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। এনআইএ মনে করছে, ভারতে অবস্থানকালে অভিযুক্তদের কারা আশ্রয় ও সহায়তা দিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটন জরুরি। পাশাপাশি মেঘালয় থেকে বনগাঁ পর্যন্ত তাদের চলাচলের নেটওয়ার্ক ও সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টাও চলছে।

গোয়েন্দাদের সন্দেহ, এই ঘটনার সঙ্গে বৃহত্তর কোনো নাশকতার পরিকল্পনা জড়িত কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে এই মামলাকে ঘিরে দুই দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে যানবাহন চুরির হিড়িক: প্রতিদিন গড়ে চুরি হচ্ছে একটি গাড়ি বা মোটরসাইকেল

হাদি হত্যায় অভিযুক্ত বাংলাদেশি, ১১ দিনের রিমান্ডে, নাশকতার ছায়া দেখছে ভারত

আপডেট সময় : ০২:২৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত দুই বাংলাদেশিকে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) ১১ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ট্রানজিট রিমান্ডে তাদের দিল্লিতে আনা হয়। মঙ্গলবার তাদের নয়াদিল্লির একটি বিশেষ এনআইএ আদালতে হাজির করা হয়। অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা অবৈধভাবে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টার সময় বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়।

গত ২৪ মার্চ পাতিয়ালা হাউস কোর্টের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রশান্ত শর্মা তাদের ১১ দিনের জন্য এনআইএ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। শুনানির সময় এনআইএ আদালতকে জানায় যে চলতি মাসের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাদের গ্রেপ্তার করে। এনআইএ-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, অভিযুক্তরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করায় এর পেছনে বৃহত্তর কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে আদালত মনে করে এবং এই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় অটোরিকশায় ভ্রমণকালে শরীফ ওসমান বিন হাদি গুলিতে নিহত হন। এই ঘটনায় ইতোমধ্যে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে একটি চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড কেবল একটি সাধারণ অপরাধ নয়, এর পেছনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। এনআইএ মনে করছে, ভারতে অবস্থানকালে অভিযুক্তদের কারা আশ্রয় ও সহায়তা দিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটন জরুরি। পাশাপাশি মেঘালয় থেকে বনগাঁ পর্যন্ত তাদের চলাচলের নেটওয়ার্ক ও সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টাও চলছে।

গোয়েন্দাদের সন্দেহ, এই ঘটনার সঙ্গে বৃহত্তর কোনো নাশকতার পরিকল্পনা জড়িত কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে এই মামলাকে ঘিরে দুই দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।