দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর যখন নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে, তখন তাদের সামনে অপেক্ষা করছিল সীমাহীন সংকট। লেখক মনে করেন, তৎকালীন প্রধান দল আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা হয়তো সেই সংকটগুলোর গভীরতা সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে পারেননি। সশস্ত্র বিপ্লব সম্পর্কে দলের মধ্যে বিস্তর আপত্তি এবং একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি বা পন্থা অবলম্বনের সুস্পষ্ট ধারণার অভাব ছিল। এমনকি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সম্ভাব্য আক্রমণ এবং জনগণের মনস্তাত্ত্বিক আকাঙ্ক্ষা যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল, সেই বিষয়টিও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা সেভাবে বিবেচনা করেননি। বরং, তখনো তারা ‘স্বায়ত্তশাসন’ নাকি ‘সহিংস পন্থায়’ ক্ষমতা ভাগাভাগি হবে, তা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। অর্থাৎ, মুক্তিযুদ্ধ নামক সশস্ত্র বিপ্লবে নেতৃত্বের তুলনায় জনগণই যেন অগ্রগামী ছিলেন।
এই সংকটের সূচনা হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ হামলার পর। তখন ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, যুদ্ধ কীভাবে চলবে, কারা সহযোগিতা দেবে – এসব নিয়ে তৎকালীন প্রধান দলের মধ্যে দিগ্ভ্রান্ত ও উদ্ভ্রান্ত ছোটাছুটি ছাড়া কোনো গত্যন্তর ছিল না। ছাত্র, যুবসমাজসহ কৃষক, শ্রমিক, নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বাঙালি সদস্যরা আগে থেকেই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। যুদ্ধের কোনো পূর্বপ্রস্তুতি বা সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা না থাকায়, বাস্তবে তখন থেকেই আওয়ামী লীগের জনবিচ্ছিন্নতার শুরু হয়েছিল বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যখন এক ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়, তখন স্বাধীনতার ঘোষণাটি প্রথম আসে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর জিয়ার কণ্ঠে। যদি রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে দোদুল্যমানতা না থাকত এবং সুস্পষ্ট কর্মপদ্ধতি ও কৌশল থাকত, তাহলে হয়তো স্বাধীনতার ঘোষণাটি বেসামরিক নেতৃত্বের মাধ্যমেই আসতে পারত। এমনকি, এটি ৭ মার্চের ভাষণেই সম্ভব হতে পারতো বলে লেখক ইঙ্গিত করেছেন।
তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মেজর জিয়ার ঘোষণাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেমন ব্যাপক মাত্রা পায়নি বা বিদেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়নি। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বিচ্ছিন্নতাবাদী কিছু ঘটনা হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে প্রচার চালানো হয়। তারা এটিকে গৃহযুদ্ধ বলে অপপ্রচার চালায়, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে বিশ্ব দরবারে সঠিকভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল।
রিপোর্টারের নাম 

























