ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয়তাবাদী দলের সাংস্কৃতিক চেতনা: নব্যদের পথপ্রদর্শক?

জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতিতে সংস্কৃতির ভূমিকা এবং এর বিবর্তন একটি বিস্তৃত ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। শহীদ জিয়াউর রহমান যখন বাকশাল পরবর্তী বাংলাদেশে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন, তখন তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিপরীতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের তত্ত্ব হাজির করেছিলেন। সংবিধান থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ সরিয়ে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা’ স্থাপন করার মাধ্যমে তিনি দেশের নব্বই শতাংশ বাঙালি মুসলমানের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন বলে ধারণা করা যায়।

বেগম খালেদা জিয়া তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিজীবনে বাঙালি মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে সর্বদা প্রাধান্য দিয়েছেন। তাঁর বিখ্যাত স্লোগান ‘ওদের হাতে গোলামির জিঞ্জির, আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা’ কেবল একটি রাজনৈতিক আহ্বান ছিল না, বরং এটি ছিল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুক্তিপাগল জনতার সংগ্রামের একটি সুনির্দিষ্ট বিভেদরেখা। এই স্লোগানটি সকল প্রকৃত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদীর জন্য একটি চিরায়ত মূলমন্ত্র হওয়া উচিত।

এবার আসা যাক বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংস্কৃতিচিন্তা প্রসঙ্গে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল। সে সময় এক ঘরোয়া আলাপে তিনি সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, মাংস এবং গোশতের মধ্যে কোন শব্দটি বাঙালি মুসলমানের সচরাচর ব্যবহার করা উচিত। এই প্রশ্নটি ছিল অপ্রত্যাশিত এবং গভীর সাংস্কৃতিক ভাবনার পরিচায়ক, যা তাঁর সংস্কৃতিবোধের একটি ভিন্ন দিক উন্মোচন করে। এই ধরনের আলোচনা এবং চিন্তাভাবনা জাতীয়তাবাদী দলের সাংস্কৃতিক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এবং তাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

জাতীয়তাবাদী দলের সাংস্কৃতিক চেতনা: নব্যদের পথপ্রদর্শক?

আপডেট সময় : ১১:২৩:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতিতে সংস্কৃতির ভূমিকা এবং এর বিবর্তন একটি বিস্তৃত ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। শহীদ জিয়াউর রহমান যখন বাকশাল পরবর্তী বাংলাদেশে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন, তখন তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিপরীতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের তত্ত্ব হাজির করেছিলেন। সংবিধান থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ সরিয়ে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা’ স্থাপন করার মাধ্যমে তিনি দেশের নব্বই শতাংশ বাঙালি মুসলমানের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন বলে ধারণা করা যায়।

বেগম খালেদা জিয়া তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিজীবনে বাঙালি মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে সর্বদা প্রাধান্য দিয়েছেন। তাঁর বিখ্যাত স্লোগান ‘ওদের হাতে গোলামির জিঞ্জির, আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা’ কেবল একটি রাজনৈতিক আহ্বান ছিল না, বরং এটি ছিল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুক্তিপাগল জনতার সংগ্রামের একটি সুনির্দিষ্ট বিভেদরেখা। এই স্লোগানটি সকল প্রকৃত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদীর জন্য একটি চিরায়ত মূলমন্ত্র হওয়া উচিত।

এবার আসা যাক বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংস্কৃতিচিন্তা প্রসঙ্গে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল। সে সময় এক ঘরোয়া আলাপে তিনি সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, মাংস এবং গোশতের মধ্যে কোন শব্দটি বাঙালি মুসলমানের সচরাচর ব্যবহার করা উচিত। এই প্রশ্নটি ছিল অপ্রত্যাশিত এবং গভীর সাংস্কৃতিক ভাবনার পরিচায়ক, যা তাঁর সংস্কৃতিবোধের একটি ভিন্ন দিক উন্মোচন করে। এই ধরনের আলোচনা এবং চিন্তাভাবনা জাতীয়তাবাদী দলের সাংস্কৃতিক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এবং তাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করতে পারে।