মুসলিম বিশ্ব কেন একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারেনি, এই প্রশ্নটি ইতিহাস, দর্শন এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় দীর্ঘকাল ধরে প্রাসঙ্গিক। অনেকেই মনে করেন, মুসলিমদের একটি অভিন্ন ধর্ম থাকায় তাদের একটি একক রাজনৈতিক শক্তি হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ধর্মীয় অভিন্নতা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ঐক্য সবসময় সহজসাধ্য হয় না। মুসলিম বিশ্বের বিভাজনের পেছনে ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক কাঠামো, জাতিগত বৈচিত্র্য এবং আন্তর্জাতিক শক্তির প্রভাব—এসব বিষয় সম্মিলিতভাবে কাজ করেছে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলিম সমাজ তুলনামূলকভাবে ঐক্যবদ্ধ ছিল।
নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর প্রথম কয়েক দশক মুসলিম সমাজ ৩২ বছর একটি কেন্দ্রীয় খিলাফতের অধীনে পরিচালিত হয়েছিল, যা রাশেদুন খিলাফত নামে পরিচিত। সেই সময় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতা একই হাতে থাকায় মুসলিম সমাজ একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হতো। পরবর্তীকালে মুসলিম বিশ্বে যে শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেগুলোকে অনেকে ইসলামিক খিলাফত বললেও—যেমন উমাইয়া, আব্বাসীয় বা অটোমান সালতানাত—বস্তুত এগুলো ছিল একেকটি রাজবংশ বা ডাইনেস্টি, যা পরিবারতান্ত্রিক শাসনের চৌহদ্দির মধ্যেই আবদ্ধ ছিল। কারণ ইসলামি খিলাফতের শাসনকাঠামোতে পরিবারতন্ত্রের কোনো স্থান নেই; শাসন হতে হয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের মতামতের ভিত্তিতে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঐক্য ভেঙে যেতে শুরু করে। নেতৃত্বের প্রশ্নে বিরোধ তৈরি হয় এবং এর ফলে মুসলিম সমাজে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতবাদ জন্ম নেয়। এই বিভাজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো কারবালার যুদ্ধ। এই ঘটনার পর মুসলিম সমাজে সুন্নি ও শিয়া বিভাজন স্থায়ী রূপ ধারণ করে। যদিও এই বিভাজন মূলত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রশ্ন থেকে শুরু হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ধর্মতাত্ত্বিক এবং সাংস্কৃতিক পার্থক্যে রূপ নেয়, যা পরবর্তী শতাব্দীগুলোতেও মুসলিম বিশ্বের রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছে। তবে শুধু ধর্মীয় বিভাজনই মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের অভাব ব্যাখ্যা করতে পারে না। ইতিহাসে দেখা যায়, মুসলিম সাম্রাজ্যগুলোও একে অপরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। উদাহরণস্বরূপ, অটোমান সাম্রাজ্য, সাফাভিদ সাম্রাজ্য এবং মোগল সাম্রাজ্য—এই তিনটি বৃহৎ সাম্রাজ্য একই সময়ে টিকে ছিল এবং তারা সবাই মুসলিম শাসিত ছিল, কিন্তু তাদের মধ্যেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিদ্যমান ছিল।
রিপোর্টারের নাম 

























