ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

আর্থিক খাতে সংস্কারের নতুন ‘রোডম্যাপ’ চায় আইএমএফ: কিস্তি ছাড় ও ঋণের অঙ্ক বৃদ্ধির সম্ভাবনা

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গৃহীত আর্থিক খাতের সংস্কার উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিকতা নির্বাচিত নতুন সরকারের আমলে কতটুকু বজায় থাকবে এবং সেখানে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ‘রোডম্যাপ’ জানতে চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সাথে এক বৈঠকে সংস্থাটির এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন এই পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকের ধারাবাহিকতায় বুধবার বাংলাদেশ মিশনের আবাসিক প্রতিনিধি ম্যাকসিম কিরিশকো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে পুনরায় আলোচনায় বসবেন, যেখানে সংস্কার কার্যক্রমের সময়সীমা ও বাস্তবায়নের পদ্ধতি সংক্রান্ত একটি লিখিত প্রতিবেদন বা রোডম্যাপ চাওয়া হতে পারে।

আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আইএমএফ-এর একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে, যারা ইতিমধ্যে ছাড় হওয়া অর্থের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করবে। এই সফর সফল হলে এবং সংস্কারের রোডম্যাপ সন্তোষজনক হলে আগামী জুন নাগাদ ঋণের পরবর্তী কিস্তি পেতে পারে বাংলাদেশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ঋণ চুক্তির সময় নির্ধারিত শর্তগুলোর বাস্তবায়ন এবং ব্যাংক খাতের বর্তমান অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা নিয়ে সংস্থাটি কাজ করছে।

বিশেষ করে খেলাপি ঋণের হার বৃদ্ধি পাওয়া এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর সুশাসন ফেরানোর উদ্যোগগুলো কীভাবে বজায় রাখা হবে, তা এখন বড় আলোচনার বিষয়। এর পাশাপাশি ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি এবং রিজার্ভের ওপর সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সরকার আইএমএফ-এর কাছে অতিরিক্ত অর্থের জোগান পেতে আলোচনা শুরু করেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসে আইএমএফ-এর বসন্তকালীন বৈঠকে ঋণের অঙ্ক বাড়ানো এবং শর্তাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

উল্লেখ্য, করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকট ও রিজার্ভের টানাপোড়েন সামাল দিতে বাংলাদেশ আইএমএফ-এর কাছ থেকে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করেছিল, যা পরবর্তীতে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পাঁচটি কিস্তিতে প্রায় ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে এবং ১৮৬ কোটি ডলার এখনো অবমুক্ত হওয়া বাকি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংক একীভূতকরণ, অর্থপাচার রোধে তদন্ত এবং বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

এখন নির্বাচিত সরকারের মেয়াদে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন মুদ্রানীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে আইএমএফ-এর শর্তাবলি ও সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনার সমন্বয় ঘটানোই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে নতুন রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রযুক্তির বিস্ময় আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র: যেভাবে আকাশপথে নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করে এই মারণাস্ত্র

আর্থিক খাতে সংস্কারের নতুন ‘রোডম্যাপ’ চায় আইএমএফ: কিস্তি ছাড় ও ঋণের অঙ্ক বৃদ্ধির সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ১০:৪৮:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গৃহীত আর্থিক খাতের সংস্কার উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিকতা নির্বাচিত নতুন সরকারের আমলে কতটুকু বজায় থাকবে এবং সেখানে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ‘রোডম্যাপ’ জানতে চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সাথে এক বৈঠকে সংস্থাটির এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন এই পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকের ধারাবাহিকতায় বুধবার বাংলাদেশ মিশনের আবাসিক প্রতিনিধি ম্যাকসিম কিরিশকো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে পুনরায় আলোচনায় বসবেন, যেখানে সংস্কার কার্যক্রমের সময়সীমা ও বাস্তবায়নের পদ্ধতি সংক্রান্ত একটি লিখিত প্রতিবেদন বা রোডম্যাপ চাওয়া হতে পারে।

আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আইএমএফ-এর একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে, যারা ইতিমধ্যে ছাড় হওয়া অর্থের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করবে। এই সফর সফল হলে এবং সংস্কারের রোডম্যাপ সন্তোষজনক হলে আগামী জুন নাগাদ ঋণের পরবর্তী কিস্তি পেতে পারে বাংলাদেশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ঋণ চুক্তির সময় নির্ধারিত শর্তগুলোর বাস্তবায়ন এবং ব্যাংক খাতের বর্তমান অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা নিয়ে সংস্থাটি কাজ করছে।

বিশেষ করে খেলাপি ঋণের হার বৃদ্ধি পাওয়া এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর সুশাসন ফেরানোর উদ্যোগগুলো কীভাবে বজায় রাখা হবে, তা এখন বড় আলোচনার বিষয়। এর পাশাপাশি ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি এবং রিজার্ভের ওপর সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সরকার আইএমএফ-এর কাছে অতিরিক্ত অর্থের জোগান পেতে আলোচনা শুরু করেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসে আইএমএফ-এর বসন্তকালীন বৈঠকে ঋণের অঙ্ক বাড়ানো এবং শর্তাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

উল্লেখ্য, করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকট ও রিজার্ভের টানাপোড়েন সামাল দিতে বাংলাদেশ আইএমএফ-এর কাছ থেকে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করেছিল, যা পরবর্তীতে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পাঁচটি কিস্তিতে প্রায় ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে এবং ১৮৬ কোটি ডলার এখনো অবমুক্ত হওয়া বাকি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংক একীভূতকরণ, অর্থপাচার রোধে তদন্ত এবং বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

এখন নির্বাচিত সরকারের মেয়াদে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন মুদ্রানীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে আইএমএফ-এর শর্তাবলি ও সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনার সমন্বয় ঘটানোই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে নতুন রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে।