“আম্মুগো আন্নে কনে, আরে আন্নের কাছে লইয়া যান গো” – মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে শিশু সামিয়ার এই হৃদয়বিদারক আর্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা সারা দেশের মানুষের মনে গভীর দাগ কেটেছে। মা হারানো এই শিশুটির সৎ মায়ের নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনাটি একটি ভিডিওর মাধ্যমে জনসমক্ষে আসে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, ১২ বছর বয়সী সামিয়া আক্তার তার মায়ের কবরের পাশে বসে কাঁদছে এবং বলছে, “আমারে কেন আপনার লগে নিয়ে গেলেন না? আম্মু গো, বের হও। আমারে নিয়ে যেতে পারেন না? কেন আমাকে রেখে গেলেন?”
জানা যায়, উপজেলার পোহনকুছা পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা সামিয়ার মা প্রায় ছয় বছর আগে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর সামিয়ার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত আছেন। বাবার অনুপস্থিতিতে তার সৎ মা আয়েশা আক্তারের সঙ্গে বসবাস করতে গিয়ে সামিয়া দীর্ঘ দিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১১টায় শিশু সামিয়া এবং তার সৎ মা আয়েশা আক্তারকে লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির করা হয়। সেখানে আয়েশা আক্তার দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার প্রতিশ্রুতি দেন। লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু জানান, সামিয়ার সৎ মা আয়েশা আক্তারকে এক মাসের জন্য সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যদি তার বিরুদ্ধে পুনরায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সামিয়ার বাবা সৌদি আরব থেকে জানিয়েছেন যে তিনি বিষয়টি শুনেছেন এবং তার স্ত্রীকে সামিয়ার প্রতি যত্নশীল হওয়ার নির্দেশ দেবেন।
রিপোর্টারের নাম 























