ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের মোগল স্থাপত্য: ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে চার প্রাচীন মসজিদ

পাহাড় ও সমুদ্রবেষ্টিত প্রাচীন নগরী চট্টগ্রাম তার বুকে ধারণ করে আছে মোগল আমলের অনন্য কিছু স্থাপত্যশৈলী। আধুনিক নগরায়নের ভিড়ে আজও সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে কয়েক শতাব্দী পুরোনো চারটি মসজিদ, যা ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন। আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ, কদম মোবারক মসজিদ, চন্দনপুরা মসজিদ এবং অলিখাঁ মসজিদ—এই চারটি স্থাপনা চট্টগ্রামের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ঐতিহাসিক তথ্যমতে, ১৬৬৬ সালে মোগলদের চট্টগ্রাম বিজয়ের পর এই অঞ্চলে ইসলামি স্থাপত্য ধারার ব্যাপক বিকাশ ঘটে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান নিদর্শন হলো আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ। ১৬৬৭ সালে বাংলার মোগল সুবেদার শায়েস্তা খাঁ সম্রাট আওরঙ্গজেবের নির্দেশে এটি নির্মাণ করেন। আন্দরকিল্লা বা দুর্গের ভেতরের অংশে নির্মিত হওয়ায় এর এমন নামকরণ করা হয়েছে। উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই মসজিদটি দূর থেকে এক গম্ভীর ও শৈল্পিক রূপ নিয়ে দৃষ্টি কাড়ে।

মসজিদগুলোর নির্মাণশৈলীতে মোগল যুগের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। বিশাল গম্বুজ, খিলানযুক্ত প্রবেশদ্বার এবং সুনিপুণ ইটের কারুকাজ সে সময়ের উন্নত শিল্পরুচির পরিচয় দেয়। এই মসজিদগুলো শুধু ইবাদতের স্থানই নয়, বরং চট্টগ্রামের প্রাচীন ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক চেতনার এক জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে যুগ যুগ ধরে টিকে আছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এলপিজির দাম বাড়লো, ১২ কেজি সিলিন্ডার ১৯৪০ টাকা

চট্টগ্রামের মোগল স্থাপত্য: ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে চার প্রাচীন মসজিদ

আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

পাহাড় ও সমুদ্রবেষ্টিত প্রাচীন নগরী চট্টগ্রাম তার বুকে ধারণ করে আছে মোগল আমলের অনন্য কিছু স্থাপত্যশৈলী। আধুনিক নগরায়নের ভিড়ে আজও সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে কয়েক শতাব্দী পুরোনো চারটি মসজিদ, যা ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন। আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ, কদম মোবারক মসজিদ, চন্দনপুরা মসজিদ এবং অলিখাঁ মসজিদ—এই চারটি স্থাপনা চট্টগ্রামের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ঐতিহাসিক তথ্যমতে, ১৬৬৬ সালে মোগলদের চট্টগ্রাম বিজয়ের পর এই অঞ্চলে ইসলামি স্থাপত্য ধারার ব্যাপক বিকাশ ঘটে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান নিদর্শন হলো আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ। ১৬৬৭ সালে বাংলার মোগল সুবেদার শায়েস্তা খাঁ সম্রাট আওরঙ্গজেবের নির্দেশে এটি নির্মাণ করেন। আন্দরকিল্লা বা দুর্গের ভেতরের অংশে নির্মিত হওয়ায় এর এমন নামকরণ করা হয়েছে। উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই মসজিদটি দূর থেকে এক গম্ভীর ও শৈল্পিক রূপ নিয়ে দৃষ্টি কাড়ে।

মসজিদগুলোর নির্মাণশৈলীতে মোগল যুগের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। বিশাল গম্বুজ, খিলানযুক্ত প্রবেশদ্বার এবং সুনিপুণ ইটের কারুকাজ সে সময়ের উন্নত শিল্পরুচির পরিচয় দেয়। এই মসজিদগুলো শুধু ইবাদতের স্থানই নয়, বরং চট্টগ্রামের প্রাচীন ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক চেতনার এক জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে যুগ যুগ ধরে টিকে আছে।