জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিয়ের আসরে দুই পক্ষের বিবাদ মেটাতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন সোহেল রানা (৩৫) নামে এক যুবক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর শুনে শোক সহ্য করতে না পেরে প্রতিবেশী বন্ধু মঞ্জু মিয়া (৪০) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন নারী।
ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের ঢোলভিটি গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢোলভিটি গ্রামের লিটন মিয়ার মেয়ে শিলা আক্তার (১৬) এবং পার্শ্ববর্তী চাঁপারকোনা গ্রামের রনির প্রায় এক মাস আগে পারিবারিকভাবে কাবিন সম্পন্ন হয়েছিল। ঈদুল ফিতরের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে শিলা এই বিয়েতে অস্বীকৃতি জানালে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
সোমবার রাতে রনি তার এলাকার কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বন্ধুদের নিয়ে শিলাদের বাড়িতে বিষয়টি মীমাংসা করতে যান। আলোচনা চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় প্রতিবেশী সোহেল রানা ঘুম থেকে উঠে ঝগড়া থামাতে শিলাদের বাড়িতে ছুটে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তিনি সেখানে পৌঁছানো মাত্রই তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পাশের একটি ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সোহেল ওই গ্রামের শাহজাহান আলীর পুত্র।
সোহেলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এই খবর শুনে তাকে দেখতে গিয়ে মঞ্জু মিয়া নামের এক প্রতিবেশী বন্ধু ঘটনাস্থলেই হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন এবং কিছুক্ষণ পরেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। একই রাতে দুই ব্যক্তির মৃত্যুতে পুরো গ্রামজুড়ে শোকের মাতম চলছে। এই সংঘর্ষে হাসনা বেগম (২০) ও সাহেরা বেগম (২৫) নামে আরও দুজন নারী আহত হয়েছেন। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
নিহত সোহেলের চাচা দুলাল মিয়া বলেন, “সোহেল সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিল। সে কেবল ঝগড়া থামাতে গিয়েছিল। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।”
সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 























