ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নিজ দেশে ও আন্তর্জাতিক মহলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্রমবর্ধমান প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি হিব্রু ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বক্তব্য রাখলেও দুই ক্ষেত্রে তার বার্তার সুর ছিল ভিন্ন, যা তার কৌশলগত দ্বিধা এবং চাপের ইঙ্গিত বহন করে।
হিব্রু ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু দিমোনা এবং আরাদ শহরে ইরানের রাতের বেলা চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেখানে ১৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হলেও কেউ নিহত না হওয়া এক ‘অলৌকিক ঘটনা’। তিনি দেশবাসীকে যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই লড়াইয়ে জয়ী হতে যতক্ষণ সময় প্রয়োজন, আমরা ততক্ষণই লড়াই চালিয়ে যাব।’
তবে ইংরেজি ভাষায় বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে তাকে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা গেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাগাড়ম্বরের সুরের অনুকরণে তিনি ইরানকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার কথা বলেন। নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বর্তমান বিশ্বকে রক্ষা করার জন্য এই লড়াই লড়ছে এবং তাই বিশ্বের অন্যান্য নেতাদেরও এই যুদ্ধে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর এই কঠোর অবস্থানের পেছনে রয়েছে গভীর সংশয়। ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আর কতদিন এমন নিরবচ্ছিন্ন সুরক্ষা দিতে পারবে এবং তার যুদ্ধ জয়ের ঘোষণা কবে বাস্তবে রূপ নেবে—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে। যুদ্ধের প্রথম দিনেই নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা ইসরাইল উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন; ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কমার বদলে বরং আরও তীব্র হয়েছে এবং ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে তা আঘাত হানছে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
রিপোর্টারের নাম 























