ঢাকা ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

কিশোরগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সানি (২২) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার প্রতিবেশী মফিজুলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের হিজলীয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সানি ওই গ্রামের কাতার প্রবাসী হাদিউল ইসলামের ছেলে এবং বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত মফিজুল একই গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে।

এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এজাহারভুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। তবে, মূল অভিযুক্ত মফিজুলসহ অপর আসামিরা এখনও পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—হিজলীয়া গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে আজিজুল ও নজরুল, যারা মূল অভিযুক্তের সহোদর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪-৫ বছর আগে স্কুলের একটি খেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী মফিজুলের সঙ্গে সানির বাগবিতণ্ডা হয়েছিল। সেই সময় সানি মফিজুলকে একটি থাপ্পড় মেরেছিলেন। এর বাইরে অন্য কোনো শত্রুতার বিষয়ে নিহতের পরিবার অবগত নয়। ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে হিজলীয়া দক্ষিণপাড়া মসজিদের পাশে মফিজুলের নেতৃত্বে কয়েকজন সানিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।

সানির আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত মফিজুলসহ অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

কিশোরগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট সময় : ১১:১৫:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সানি (২২) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার প্রতিবেশী মফিজুলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের হিজলীয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সানি ওই গ্রামের কাতার প্রবাসী হাদিউল ইসলামের ছেলে এবং বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত মফিজুল একই গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে।

এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এজাহারভুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। তবে, মূল অভিযুক্ত মফিজুলসহ অপর আসামিরা এখনও পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—হিজলীয়া গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে আজিজুল ও নজরুল, যারা মূল অভিযুক্তের সহোদর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪-৫ বছর আগে স্কুলের একটি খেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী মফিজুলের সঙ্গে সানির বাগবিতণ্ডা হয়েছিল। সেই সময় সানি মফিজুলকে একটি থাপ্পড় মেরেছিলেন। এর বাইরে অন্য কোনো শত্রুতার বিষয়ে নিহতের পরিবার অবগত নয়। ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে হিজলীয়া দক্ষিণপাড়া মসজিদের পাশে মফিজুলের নেতৃত্বে কয়েকজন সানিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।

সানির আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত মফিজুলসহ অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।