ঢাকা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

হাদি হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার ফয়সালের, ভারতে কারাগারে পাঠানো হলো

ঢাকার ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের পর কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। সেখানে ফয়সাল করিম জোর গলায় দাবি করেছেন যে, তিনি ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন।

গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বনগাঁ এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ) ফয়সাল ও আলমগীরকে আটক করে। অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা বিচার বিভাগীয় আদালতে হাজির করা হলে আদালত দুজনকে ১২ দিনের জন্য কারা হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী ২ এপ্রিল তাদের আবার আদালতে হাজির করা হবে।

আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল বলেন, ‘আমি এই কাজ করিনি। এসব কাজের সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম না।’ যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয় যে তাকে ফাঁসানো হয়েছে কিনা, তখন তিনি কোনো উত্তর দেননি। তবে এসটিএফ সূত্র জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকায় ওসমান হাদিকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবর্ষণের পর পুলিশি তদন্তে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিমের নাম উঠে আসে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, যে মোটরসাইকেলে করে ওসমান হাদীকে গুলি করা হয়েছিল, তাতে ফয়সাল ও আলমগীর ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পরপরই তারা ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। প্রায় তিন মাস পর তারা ভারতে গ্রেপ্তার হন। এসটিএফের ভাষ্যমতে, ফয়সাল ও আলমগীর ভারতে পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, এই দুই ব্যক্তিকে দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

হাদি হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার ফয়সালের, ভারতে কারাগারে পাঠানো হলো

আপডেট সময় : ০৭:৫৩:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

ঢাকার ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের পর কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। সেখানে ফয়সাল করিম জোর গলায় দাবি করেছেন যে, তিনি ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন।

গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বনগাঁ এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ) ফয়সাল ও আলমগীরকে আটক করে। অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা বিচার বিভাগীয় আদালতে হাজির করা হলে আদালত দুজনকে ১২ দিনের জন্য কারা হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী ২ এপ্রিল তাদের আবার আদালতে হাজির করা হবে।

আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল বলেন, ‘আমি এই কাজ করিনি। এসব কাজের সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম না।’ যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয় যে তাকে ফাঁসানো হয়েছে কিনা, তখন তিনি কোনো উত্তর দেননি। তবে এসটিএফ সূত্র জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকায় ওসমান হাদিকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবর্ষণের পর পুলিশি তদন্তে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিমের নাম উঠে আসে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, যে মোটরসাইকেলে করে ওসমান হাদীকে গুলি করা হয়েছিল, তাতে ফয়সাল ও আলমগীর ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পরপরই তারা ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। প্রায় তিন মাস পর তারা ভারতে গ্রেপ্তার হন। এসটিএফের ভাষ্যমতে, ফয়সাল ও আলমগীর ভারতে পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, এই দুই ব্যক্তিকে দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।