ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে ‘চরম সঙ্কটে’ ট্রাম্প, মিত্রদের বিচ্ছিন্নতা ও অভ্যন্তরীণ চাপ বৃদ্ধি

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার তিন সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছেন, যা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী, মিত্রদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুদ্ধ ‘সাময়িক অভিযান’ হলেও বর্তমানে ইরানে আরও সৈন্য মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোকে ‘কাপুরুষ’ আখ্যা দিয়ে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদের সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানানোয় ন্যাটোর পাশে আর না দাঁড়ানোরও ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সামরিক অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। তবে, শুক্রবার ‘যুদ্ধে সামরিক বিজয় অর্জিত হয়েছে’ বলে তার যে ঘোষণা, তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ইরান পারস্য উপসাগরে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে এবং পুরো অঞ্চলে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘নির্বোধ’ সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে দূরে রাখার অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্প এখন নিজের শুরু করা এই যুদ্ধের ফলাফল বা এর প্রচার কোনোটিই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। যুদ্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্থান পরিকল্পনা না থাকায় ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং তার দলের ভবিষ্যৎ উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা টিকিয়ে রাখা নিয়েও টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।

রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় প্রশাসনের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলার মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প নিজেই ‘ইরান যুদ্ধ’ নামের একটি খাঁচা তৈরি করেছেন এবং এখন সেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না, যা তার চরম হতাশার কারণ। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা অবশ্য দাবি করেছেন যে, ইরানের অনেক শীর্ষ নেতাকে নিশানা করে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে, দেশটির নৌবাহিনীর বেশিরভাগ অংশ ডুবিয়ে দেওয়া এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ধ্বংস করা হয়েছে, যা নজিরবিহীন সামরিক সাফল্য। তবে গত এক সপ্তাহে কূটনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক—সবক্ষেত্রেই ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে ‘চরম সঙ্কটে’ ট্রাম্প, মিত্রদের বিচ্ছিন্নতা ও অভ্যন্তরীণ চাপ বৃদ্ধি

আপডেট সময় : ০৭:৫০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার তিন সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছেন, যা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী, মিত্রদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুদ্ধ ‘সাময়িক অভিযান’ হলেও বর্তমানে ইরানে আরও সৈন্য মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোকে ‘কাপুরুষ’ আখ্যা দিয়ে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদের সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানানোয় ন্যাটোর পাশে আর না দাঁড়ানোরও ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সামরিক অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। তবে, শুক্রবার ‘যুদ্ধে সামরিক বিজয় অর্জিত হয়েছে’ বলে তার যে ঘোষণা, তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ইরান পারস্য উপসাগরে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে এবং পুরো অঞ্চলে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘নির্বোধ’ সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে দূরে রাখার অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্প এখন নিজের শুরু করা এই যুদ্ধের ফলাফল বা এর প্রচার কোনোটিই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। যুদ্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্থান পরিকল্পনা না থাকায় ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং তার দলের ভবিষ্যৎ উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা টিকিয়ে রাখা নিয়েও টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।

রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় প্রশাসনের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলার মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প নিজেই ‘ইরান যুদ্ধ’ নামের একটি খাঁচা তৈরি করেছেন এবং এখন সেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না, যা তার চরম হতাশার কারণ। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা অবশ্য দাবি করেছেন যে, ইরানের অনেক শীর্ষ নেতাকে নিশানা করে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে, দেশটির নৌবাহিনীর বেশিরভাগ অংশ ডুবিয়ে দেওয়া এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ধ্বংস করা হয়েছে, যা নজিরবিহীন সামরিক সাফল্য। তবে গত এক সপ্তাহে কূটনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক—সবক্ষেত্রেই ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়েছে।