ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটি নিয়ে বিতর্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ছায়া ইউরোপেও

সাম্প্রতিক ইসরাইল-ইরান সংঘাতের রেশ মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যা বিশেষ করে সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিগুলোকে কেন্দ্র করে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডুলিডেস সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘খোলামেলা আলোচনা’র প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তিনি আরএএফ আক্রোতিরি ও ঢেকেলিয়া ঘাঁটি দুটিকে ‘ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার’ হিসেবে অভিহিত করেন। ১৯৬০ সালে সাইপ্রাস ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করলেও, এই ঘাঁটিগুলোর ওপর যুক্তরাজ্যের সার্বভৌমত্ব তখনও বলবৎ থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) আক্রোতিরি ঘাঁটিকে ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এই ঘটনা ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন যে, এই সামরিক ঘাঁটিগুলোর উপস্থিতি সাইপ্রাসকে হামলার ঝুঁকিতে ফেলেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, এই ঘাঁটিগুলো ভূমধ্যসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ নাগরিক ও মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা আরো জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই সাইপ্রাসে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডুলিডেসকে আশ্বস্ত করেছেন যে, আরএএফ আক্রোতিরি ঘাঁটিটি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশ নেবে না। যদিও যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে, প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড এবং ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

তবে পরবর্তীতে, স্টারমার হরমুজ প্রণালিকে লক্ষ্য করে ইরানের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছেন। এর আগে এক টেলিফোন আলাপে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোডুলাইডসের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করেন যে, সম্মিলিত প্রতিরক্ষায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা হ্রাস করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের চুক্তির ধারাবাহিকতায় আরএএফ আক্রোতিরি ঘাঁটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। দুই নেতার মধ্যে এই আলোচনায় চলমান সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা: তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ এইচআরএসএস-এর

সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটি নিয়ে বিতর্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ছায়া ইউরোপেও

আপডেট সময় : ১২:৫২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

সাম্প্রতিক ইসরাইল-ইরান সংঘাতের রেশ মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যা বিশেষ করে সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিগুলোকে কেন্দ্র করে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডুলিডেস সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘খোলামেলা আলোচনা’র প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তিনি আরএএফ আক্রোতিরি ও ঢেকেলিয়া ঘাঁটি দুটিকে ‘ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার’ হিসেবে অভিহিত করেন। ১৯৬০ সালে সাইপ্রাস ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করলেও, এই ঘাঁটিগুলোর ওপর যুক্তরাজ্যের সার্বভৌমত্ব তখনও বলবৎ থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) আক্রোতিরি ঘাঁটিকে ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এই ঘটনা ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন যে, এই সামরিক ঘাঁটিগুলোর উপস্থিতি সাইপ্রাসকে হামলার ঝুঁকিতে ফেলেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, এই ঘাঁটিগুলো ভূমধ্যসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ নাগরিক ও মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা আরো জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই সাইপ্রাসে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডুলিডেসকে আশ্বস্ত করেছেন যে, আরএএফ আক্রোতিরি ঘাঁটিটি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশ নেবে না। যদিও যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে, প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড এবং ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

তবে পরবর্তীতে, স্টারমার হরমুজ প্রণালিকে লক্ষ্য করে ইরানের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছেন। এর আগে এক টেলিফোন আলাপে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোডুলাইডসের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করেন যে, সম্মিলিত প্রতিরক্ষায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা হ্রাস করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের চুক্তির ধারাবাহিকতায় আরএএফ আক্রোতিরি ঘাঁটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। দুই নেতার মধ্যে এই আলোচনায় চলমান সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।