ঢাকা ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ঝড়ো মেঘনায় বাবার খোঁজে দুই ছেলের অদম্য লড়াই, শেষে বাবার লাশ তীরে

বঙ্গোপসাগরের মোহনায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় নূরে আলম (৪৫) নামের এক জেলের প্রাণহানি ঘটেছে। গত শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের বয়ার চর-সংলগ্ন মেঘনা ও সাগরের উত্তাল মোহনায় মাছ ধরতে গিয়ে তিনি ঝড়ের কবলে পড়েন। নৌকা ডুবে যাওয়ার পর প্রায় দুই ঘণ্টা সাঁতরে বাবার নিথর দেহ তীরে নিয়ে আসেন তার দুই সাহসী সন্তান।

নিহত নূরে আলম ছিলেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার চরমানিকা গ্রামের বাসিন্দা। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে তিনি তার দুই ছেলে শাহিন ও শাকিলকে সঙ্গে নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে পাড়ি জমিয়েছিলেন। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও, আচমকা আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে এবং প্রবল ঝড় শুরু হয়। মুহূর্তেই সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে এবং বিশাল ঢেউ সৃষ্টি হয়। ঝড়ের তীব্রতায় তাদের মাছ ধরার নৌকাটি উল্টে যায়।

নৌকা ডুবে যাওয়ার পর তিনজনেই জীবন বাঁচানোর জন্য সাঁতরাতে শুরু করেন। দুই ছেলে তাদের বাবাকে ধরে রেখে তীরে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালান। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করার পর নূরে আলম নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তবুও হাল ছাড়েননি তার সন্তানেরা। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে তারা বাবার নিথর দেহ আগলে রাখেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে সাঁতরে তারা শেষ পর্যন্ত বাবার মরদেহ নিয়ে লোকালয়ে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, নূরে আলমের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র এবং নদীতে মাছ ধরেই তাদের সংসার চলত। সন্তানদের কান্না থামছে না এবং তারা প্রায় বাক্‌রুদ্ধ হয়ে গেছে। এই বিষয়ে চরফ্যাশনের দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবির জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং মৃত জেলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে সার্বিক খোঁজখবর নেওয়ার জন্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সার্ক পুনরুজ্জীবন, আঞ্চলিক শান্তি ও বৈশ্বিক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ঝড়ো মেঘনায় বাবার খোঁজে দুই ছেলের অদম্য লড়াই, শেষে বাবার লাশ তীরে

আপডেট সময় : ০৮:২৮:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

বঙ্গোপসাগরের মোহনায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় নূরে আলম (৪৫) নামের এক জেলের প্রাণহানি ঘটেছে। গত শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের বয়ার চর-সংলগ্ন মেঘনা ও সাগরের উত্তাল মোহনায় মাছ ধরতে গিয়ে তিনি ঝড়ের কবলে পড়েন। নৌকা ডুবে যাওয়ার পর প্রায় দুই ঘণ্টা সাঁতরে বাবার নিথর দেহ তীরে নিয়ে আসেন তার দুই সাহসী সন্তান।

নিহত নূরে আলম ছিলেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার চরমানিকা গ্রামের বাসিন্দা। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে তিনি তার দুই ছেলে শাহিন ও শাকিলকে সঙ্গে নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে পাড়ি জমিয়েছিলেন। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও, আচমকা আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে এবং প্রবল ঝড় শুরু হয়। মুহূর্তেই সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে এবং বিশাল ঢেউ সৃষ্টি হয়। ঝড়ের তীব্রতায় তাদের মাছ ধরার নৌকাটি উল্টে যায়।

নৌকা ডুবে যাওয়ার পর তিনজনেই জীবন বাঁচানোর জন্য সাঁতরাতে শুরু করেন। দুই ছেলে তাদের বাবাকে ধরে রেখে তীরে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালান। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করার পর নূরে আলম নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তবুও হাল ছাড়েননি তার সন্তানেরা। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে তারা বাবার নিথর দেহ আগলে রাখেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে সাঁতরে তারা শেষ পর্যন্ত বাবার মরদেহ নিয়ে লোকালয়ে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, নূরে আলমের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র এবং নদীতে মাছ ধরেই তাদের সংসার চলত। সন্তানদের কান্না থামছে না এবং তারা প্রায় বাক্‌রুদ্ধ হয়ে গেছে। এই বিষয়ে চরফ্যাশনের দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবির জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং মৃত জেলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে সার্বিক খোঁজখবর নেওয়ার জন্য।