তুরস্কের আন্তালিয়া কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘টিআরটি ওয়ার্ল্ড’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সার্ক পুনরুজ্জীবনের ওপর বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ শান্তি ও সমন্বয় প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক পরিবর্তনকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি জানান, শক্তিশালী জনসমর্থন ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে যে শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা একটি স্থিতিশীল ও অগ্রসর পররাষ্ট্রনীতির শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে। একটি সক্রিয় সংসদ, নাগরিক সমাজ এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যে প্রাণবন্ত বিতর্কের সুযোগ তৈরি হয়েছে, তাকে তিনি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষের বসবাস এই অঞ্চলে হলেও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের পরিমাণ মাত্র ৫ শতাংশ। এই স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে আঞ্চলিক সহযোগিতার পথিকৃৎ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি স্পষ্ট করেন যে, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবন করা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে বিদ্যমান সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে এ অঞ্চলের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
বৈশ্বিক শান্তি ও রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি শুরু হয় অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা দিয়ে, যা আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধানে গঠনমূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রসারিত হয়। রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে ঢাকা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অনন্য অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা কেবল শৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, বরং বিদেশের মাটিতে রাস্তাঘাট ও বিদ্যালয় নির্মাণসহ স্থানীয় কমিউনিটি পুনর্গঠনেও প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছেন।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে তিনি ‘ব্যতিক্রমী ও বিশেষ’ হিসেবে বর্ণনা করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিশেষে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স, দক্ষতা ও বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। সরকার প্রবাসীদের সাথে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এবং জাতীয় উন্নয়নে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রিপোর্টারের নাম 



















