ঈদুল ফিতরের দিন দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বকুল আকস্মিকভাবে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। তিনি সেখানে রোগীদের জন্য তৈরি করা খাবারের মান যাচাই করতে সরাসরি রন্ধনশালায় যান এবং নিজে খাবার খেয়ে দেখেন। এরপর তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে, তিনি একজন অসচ্ছল গ্যাস্ট্রো নারী রোগীর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে তাকে তাৎক্ষণিক ভাবে রাজধানীর একটি বিশেষায়িত গ্যাস্ট্রো হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সামগ্রিকভাবে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ভালো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান সন্তোষজনক। তিনি আরও জানান যে, জনবল কাঠামোর সংকট নিরসনে দীর্ঘ দিন ধরে ডেপুটেশনে থাকা দশজন চিকিৎসকের আদেশ আগামী এক মাসের মধ্যে বাতিল করা হবে। কুকুর ও বিড়ালের কামড়ের ভ্যাকসিন এবং এক্স-রে ফিল্মের সংকট নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট বরাদ্দের খোঁজখবর নেন।
এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় বাসিন্দা, কাপাসিয়া প্রেসক্লাব এবং স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। পার্শ্ববর্তী মনোহরদীর বাসিন্দা হিসেবে কাপাসিয়াকে বিশেষ বিবেচনায় রাখার জন্য মন্ত্রীর কাছে দাবি জানানো হয়। মন্ত্রী ডিউটি চলাকালীন সময়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের রোগী দেখার ব্যাপারে সতর্ক করেন এবং এ বিষয়ে স্থানীয়দের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
হাসপাতালের অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও উন্নত ও স্বচ্ছ করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আরও আধুনিক ও উন্নত সেবাকেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং তা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আগামী এক মাসের মধ্যে দেশব্যাপী স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ডা. তামান্না তাসনীম উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 

























