প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশজুড়ে চলমান তেল সংকটের মধ্যে ঈদের ছুটির দিনেও জনভোগান্তি কমেনি। প্রাথমিকভাবে রেশনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পাম্পগুলো থেকে তেল সরবরাহ করা হলেও, রেশনিং তুলে নেওয়ার পরও পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই ভেবেছিলেন ঈদের ছুটিতে হয়তো এই দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে না, কিন্তু ঈদের দিনও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন তেল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেল পাওয়ার জন্য।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে, যার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও স্পষ্ট।
রাজধানীর আসাদগেটে অবস্থিত দুটি তেল পাম্পের মধ্যে একটি বন্ধ দেখা গেছে। সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন খোলা থাকলেও এর সামনে ব্যক্তিগত পরিবহন ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি ছিল। ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনের সামনেও একই চিত্র দেখা গেছে; ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের সারিবদ্ধভাবে তেল নিতে দেখা গেছে।
সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা জানিয়েছেন, ঈদের আগে পাম্পগুলোতে যে চাপ ছিল, তারা ভেবেছিলেন ছুটির মধ্যে তা কমবে। কিন্তু পরিস্থিতি ভিন্ন। তারা আরও বলেন, নামাজের পর থেকে তেল দেওয়া শুরু হলেও লাইনে অপেক্ষমাণদের সংখ্যা কমছে না।
একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন অন্য পাম্পের কর্মীরাও। লাইনে অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেল চালক সোহাগ জানান, ঈদের দিন ভিড় কম থাকবে ভেবে তিনি পরে তেল নিতে এসেছেন, কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে আগেই পাম্পগুলোতে কম ভিড় ছিল। মোটরসাইকেল চালক হোসেইন আলী জানান, তিনি বেলা ১১টার আগে লাইনে দাঁড়িয়েছেন এবং প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও পাম্পের কাছাকাছি আসতে পেরেছেন, তবে তেল পেতে আরও ১৫-২০ মিনিট সময় লাগবে বলে ধারণা করছেন। মোটরসাইকেল চালক রিমন জানান, বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হওয়ার জন্য তেল নিতে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতেই তার সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে তেল-গ্যাসের স্থাপনায় হামলা হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা এই সংকটের মূল কারণ।
রিপোর্টারের নাম 
























