ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। দেশীয় অস্ত্র ঢাল, সরকী, রামদা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় বাড়িঘর ভাঙচুর এবং গবাদিপশু ও ঘরবাড়ির মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার এবং দুইজনকে আটক করেছে।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল নয়টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর ও ছোট হামেরদী গ্রামের বিবদমান দুটি দলের মধ্যে থেমে থেমে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষের ঘটনায় ২৫ থেকে ৩০টি বাড়িঘর ভাঙচুর এবং ১০টি গবাদিপশু লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপীনাথপুর গ্রামের কুদ্দুস মুন্সী ও হাসান মুন্সীর সাথে ছোট হামেরদী গ্রামের লিটন মাতুব্বরের লোকজনের মধ্যে দুই দিন আগে গ্রামের একটি চায়ের দোকানে চা পান করার সময় তর্কের জেরে মধ্য রাতে টর্চলাইট জ্বালিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পূর্ব ঘটনার জের ধরে দুই দল গ্রামবাসী পুনরায় রাতে বিভিন্ন জায়গা থেকে দেশীয় অস্ত্র সংগ্রহ করে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেয়। শনিবার সকালে ঈদের নামাজ পড়ার পর নামাজের মাঠ থেকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষের লোকজন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করেন। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান জানান, দুদিন আগে মধ্যরাতে সংঘটিত ঘটনার সূত্র ধরে বিবদমান দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্স এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (ভাঙ্গা সার্কেল) সাথে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। পরবর্তীতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
রিপোর্টারের নাম 























