ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাসে দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্বোধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসফিল্ডে দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রোববার সদর উপজেলার বুধল এলাকায় এই কূপটির খননকাজের উদ্বোধন করেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) মিজানুর রহমান। সংশ্লিষ্টদের আশা, খনন সম্পন্ন হলে এ কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে তিতাস গ্যাস ফিল্ডের ২২টি কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে দেশের সবচেয়ে পুরোনো এই গ্যাসফিল্ডের সবকটি কূপ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস উত্তোলনের ফলে মজুত এবং চাপ কমে এসেছে, যা উৎপাদনের ওপর প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে গ্যাসের নতুন উৎস সন্ধানে বিজিএফসিএল একটি থ্রিডি সিসমিক জরিপ প্রকল্প গ্রহণ করে। এরই অংশ হিসেবে তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন করা হচ্ছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯৪ কোটি টাকা।

প্রায় সাত মাস ধরে খননকাজ চলবে তিতাসের নতুন ৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপটি, যা ৫,৬০০ মিটার গভীরতায় খনন করা হবে। এই খননকাজটি করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি। খনন শেষে কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মাহমুদুল নবাব জানান, থ্রিডি সিসমিক জরিপের রিপোর্ট অনুযায়ী এই কূপটিতে এক থেকে দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক গভীরতায় কূপ খনন করার কারণে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও, সফলভাবে খনন শেষ করতে পারলে এখানে আরও সাতটি কূপ খননের সুযোগ তৈরি হবে।

বিজিএফসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুল জলিল প্রামাণিক জানান, তিতাসসহ বিজিএফসিএল পরিচালিত অন্যান্য ফিল্ড থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে নতুন কূপ খনন এবং পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ সফলভাবে খনন করতে পারলে তা দেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চলতি বছরের মধ্যে ৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশীয় জ্বালানির উৎস অনুসন্ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অবরোধ প্রত্যাহার করলেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা সম্ভব: ইরান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাসে দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্বোধন

আপডেট সময় : ১০:২৮:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসফিল্ডে দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রোববার সদর উপজেলার বুধল এলাকায় এই কূপটির খননকাজের উদ্বোধন করেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) মিজানুর রহমান। সংশ্লিষ্টদের আশা, খনন সম্পন্ন হলে এ কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে তিতাস গ্যাস ফিল্ডের ২২টি কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে দেশের সবচেয়ে পুরোনো এই গ্যাসফিল্ডের সবকটি কূপ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস উত্তোলনের ফলে মজুত এবং চাপ কমে এসেছে, যা উৎপাদনের ওপর প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে গ্যাসের নতুন উৎস সন্ধানে বিজিএফসিএল একটি থ্রিডি সিসমিক জরিপ প্রকল্প গ্রহণ করে। এরই অংশ হিসেবে তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন করা হচ্ছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯৪ কোটি টাকা।

প্রায় সাত মাস ধরে খননকাজ চলবে তিতাসের নতুন ৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপটি, যা ৫,৬০০ মিটার গভীরতায় খনন করা হবে। এই খননকাজটি করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি। খনন শেষে কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মাহমুদুল নবাব জানান, থ্রিডি সিসমিক জরিপের রিপোর্ট অনুযায়ী এই কূপটিতে এক থেকে দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক গভীরতায় কূপ খনন করার কারণে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও, সফলভাবে খনন শেষ করতে পারলে এখানে আরও সাতটি কূপ খননের সুযোগ তৈরি হবে।

বিজিএফসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুল জলিল প্রামাণিক জানান, তিতাসসহ বিজিএফসিএল পরিচালিত অন্যান্য ফিল্ড থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে নতুন কূপ খনন এবং পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ সফলভাবে খনন করতে পারলে তা দেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চলতি বছরের মধ্যে ৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশীয় জ্বালানির উৎস অনুসন্ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।