কুড়িগ্রামের চিলমারীতে তিস্তা নদীর উপর নির্মিত ভাসানী সেতু স্থানীয় কৃষকদের জীবনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সেতুটি কেবল দুটি উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিই ঘটায়নি, বরং নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়া কৃষিজমি পুনরুদ্ধার এবং ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন এনেছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাস্তুহারা হওয়া বহু পরিবার সেতুর নিচে জেগে ওঠা শত শত হেক্টর জমিতে ভুট্টা ও অন্যান্য রবি শস্য চাষ করে অভাবনীয় ফলন পেয়েছেন। দীর্ঘদিন পর হারানো জমিতে ফসল ফলাতে পেরে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষক সোহরাব আলী ও আনোয়ার জানান, সেতু নির্মাণ এবং ভাঙন রোধে বাঁধ দেওয়ার ফলে তিস্তার বুকে যে বিশাল চর জেগে উঠেছে, সেখানে তারা ভুট্টা চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। এতে করে তারা সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান মিয়া বলেন, জমি হারানোর পর তারা দিশাহারা হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু সেতু নির্মাণের ফলে নতুন করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন এবং তাদের ঘরে সুখ ফিরে আসবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ফাহমিদুল হক জানান, একসময় ভাঙনের শিকার হওয়া হাজার হাজার হেক্টর জমি যে আবার চাষাবাদের আওতায় আসবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। সেতু ও বাঁধ নির্মাণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তিনি আরও জানান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল এখন ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারবেন, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করবে। পাশাপাশি, ব্যবসায়ীরাও স্বল্প খরচে সহজে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য পরিবহন করতে পারবেন।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার তিস্তার চরে ভুট্টা ও অন্যান্য রবি ফসলের চাষ ব্যাপক হারে বেড়েছে এবং ফলনও হয়েছে অত্যন্ত ভালো। ভাসানী সেতু নির্মাণ চিলমারী ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মধ্যে কেবল ভৌগোলিক দূরত্বই কমায়নি, বরং কৃষকদের জীবনে এনেছে সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতার নতুন বার্তা।
রিপোর্টারের নাম 























