ঢাকা ১১:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

সীমান্তে ঈদ, তবুও স্মরণে স্বজন আর নিজ ভূমি: রোহিঙ্গাদের বিষাদময় উৎসব

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ বিষাদের এক মিশ্র অনুভূতিতে রূপ নিয়েছে। নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং শরণার্থী জীবনের নানা বঞ্চনার মাঝে মুসলমানরা তাদের এই অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করছেন।

শুক্রবার (২১ মার্চ) সকালে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে শিশুদের মুখে ক্ষণিকের জন্য আনন্দের রেখা দেখা গেলেও বড়দের চোখে-মুখে ছিল স্বজন হারানোর বেদনা এবং নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকুতি। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের স্মৃতি এবং বর্তমানের অভাব-অনটন ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে।

অনেক ইমাম ও মুসল্লি ঈদের জামাত শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা মোনাজাতে নিজেদের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিচার প্রার্থনা করেন এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে, তারা নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করেন।

কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা ইউনুস আরমান বলেন, ‘ঈদ এলেও আমাদের মধ্যে প্রকৃত আনন্দ নেই। নিজ দেশে ঈদ উদযাপন আর এখানে ভিন্ন। সেখানে আমাদের পূর্বপুরুষদের কবর রয়েছে, প্রতি ঈদে আমরা সেখানে যেতাম। এখন তা সম্ভব নয়। এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে?’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি শিবিরে পুরনোদেরসহ ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: আরব বসন্তের পর কি এবার নতুন কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত?

সীমান্তে ঈদ, তবুও স্মরণে স্বজন আর নিজ ভূমি: রোহিঙ্গাদের বিষাদময় উৎসব

আপডেট সময় : ০৪:০৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ বিষাদের এক মিশ্র অনুভূতিতে রূপ নিয়েছে। নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং শরণার্থী জীবনের নানা বঞ্চনার মাঝে মুসলমানরা তাদের এই অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করছেন।

শুক্রবার (২১ মার্চ) সকালে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে শিশুদের মুখে ক্ষণিকের জন্য আনন্দের রেখা দেখা গেলেও বড়দের চোখে-মুখে ছিল স্বজন হারানোর বেদনা এবং নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকুতি। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের স্মৃতি এবং বর্তমানের অভাব-অনটন ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে।

অনেক ইমাম ও মুসল্লি ঈদের জামাত শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা মোনাজাতে নিজেদের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিচার প্রার্থনা করেন এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে, তারা নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করেন।

কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা ইউনুস আরমান বলেন, ‘ঈদ এলেও আমাদের মধ্যে প্রকৃত আনন্দ নেই। নিজ দেশে ঈদ উদযাপন আর এখানে ভিন্ন। সেখানে আমাদের পূর্বপুরুষদের কবর রয়েছে, প্রতি ঈদে আমরা সেখানে যেতাম। এখন তা সম্ভব নয়। এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে?’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি শিবিরে পুরনোদেরসহ ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে।