ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ঈদের বাঁশির সুর: স্মৃতির মণিমুক্তায় হারানো দিনের আনন্দ

মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ কেবল ধর্মীয় আচার পালনের সমাপ্তিই নয়, বরং এটি সমাজে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের এক সুদৃঢ় ভিত্তি নির্মাণের সুযোগ তৈরি করে। ঈদ উৎসব ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলকে এক অভিন্ন আনন্দবোধে আবদ্ধ করে, যা পার্থিব বৈষম্যের গণ্ডি অতিক্রম করে মানুষকে এক সামষ্টিক চেতনায় যুক্ত করে তোলে।

ঈদের সকালে নির্মল আবহে মুসলমানরা ঈদগাহে সমবেত হয়ে সম্মিলিতভাবে নামাজ আদায় করেন এবং একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন। এর মাধ্যমে সামাজিক ও মানবিক বন্ধনের নবায়ন ঘটে। ঘরে ঘরে সেমাই, ফিরনি, পায়েস কিংবা তেহারি, বিরিয়ানি, চটপটি জাতীয় খাবারের আয়োজন ও আদান-প্রদানের মাধ্যমে যে আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ তৈরি হয়, তা সমাজজীবনে ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।

ঈদ উপলক্ষে নগরজীবনের যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাদের গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ছুটে যায়। নাড়ির টানে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের গ্রামের বাড়িতে যাওয়া প্রায়শই নানা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে শত বিড়ম্বনা ও ভোগান্তি সত্ত্বেও প্রিয়জনের কাছে পৌঁছে ঈদের অনাবিল আনন্দ উপভোগ করেন সবাই।

ঈদ এলেই শৈশব-কৈশোরের সেই রঙিন ঈদের স্মৃতি মানসপটে ভেসে ওঠে। প্রাণবন্ত ঈদ আর যান্ত্রিক ঈদের মধ্যেকার পার্থক্য অনুভবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লেখকের বাবা ছিলেন একজন খ্যাতনামা আলেম ও মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। আশির দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত গ্রামেই ঈদ উদযাপিত হতো। বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আমির উদ্দিন মুন্সীর হাট, যা স্থানীয়ভাবে ‘আইদ্যুমুসি বাজার’ নামে পরিচিত, সেই হাটের ধুলোবালি মেখেই লেখকের বেড়ে ওঠা। শৈশব-কৈশোরে ওই হাটের চায়ের দোকানে চা বা সর-ওঠা দুধে তন্দুর রুটি খাওয়ার স্মৃতি আজও অমলিন।

ওই হাটে লেখকের নানা-র একটি পোশাকের দোকান ছিল। মূলত হাটবারেই তিনি সেখানে বসতেন। একটি দোচালা টিনের শেড ছোট ছোট ভাগ করে তাতে লুঙ্গি, শাড়ি, গামছা, সেন্টু গেঞ্জি ইত্যাদি পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসতেন ব্যবসায়ীরা। ঈদের মৌসুমে কয়েকটি হাটবার গভীর রাত পর্যন্ত জমজমাট থাকত। নানার সঙ্গে বসে থাকতেন লেখক। ঈদের সময় তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন কখন নানা তাকে নতুন লুঙ্গি দেবেন। পছন্দের লুঙ্গিটি পাওয়ার পর যে আনন্দ হতো, তা ভোলার নয়। কাছেই একজন দরজি বসে থাকতেন, সেলাই করে দেওয়ার জন্য। সেই নতুন লুঙ্গি নিয়ে বাড়ি ফেরার স্মৃতি আজও অম্লান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

ঈদের বাঁশির সুর: স্মৃতির মণিমুক্তায় হারানো দিনের আনন্দ

আপডেট সময় : ০৬:৫৪:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ কেবল ধর্মীয় আচার পালনের সমাপ্তিই নয়, বরং এটি সমাজে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের এক সুদৃঢ় ভিত্তি নির্মাণের সুযোগ তৈরি করে। ঈদ উৎসব ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলকে এক অভিন্ন আনন্দবোধে আবদ্ধ করে, যা পার্থিব বৈষম্যের গণ্ডি অতিক্রম করে মানুষকে এক সামষ্টিক চেতনায় যুক্ত করে তোলে।

ঈদের সকালে নির্মল আবহে মুসলমানরা ঈদগাহে সমবেত হয়ে সম্মিলিতভাবে নামাজ আদায় করেন এবং একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন। এর মাধ্যমে সামাজিক ও মানবিক বন্ধনের নবায়ন ঘটে। ঘরে ঘরে সেমাই, ফিরনি, পায়েস কিংবা তেহারি, বিরিয়ানি, চটপটি জাতীয় খাবারের আয়োজন ও আদান-প্রদানের মাধ্যমে যে আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ তৈরি হয়, তা সমাজজীবনে ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।

ঈদ উপলক্ষে নগরজীবনের যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাদের গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ছুটে যায়। নাড়ির টানে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের গ্রামের বাড়িতে যাওয়া প্রায়শই নানা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে শত বিড়ম্বনা ও ভোগান্তি সত্ত্বেও প্রিয়জনের কাছে পৌঁছে ঈদের অনাবিল আনন্দ উপভোগ করেন সবাই।

ঈদ এলেই শৈশব-কৈশোরের সেই রঙিন ঈদের স্মৃতি মানসপটে ভেসে ওঠে। প্রাণবন্ত ঈদ আর যান্ত্রিক ঈদের মধ্যেকার পার্থক্য অনুভবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লেখকের বাবা ছিলেন একজন খ্যাতনামা আলেম ও মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। আশির দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত গ্রামেই ঈদ উদযাপিত হতো। বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আমির উদ্দিন মুন্সীর হাট, যা স্থানীয়ভাবে ‘আইদ্যুমুসি বাজার’ নামে পরিচিত, সেই হাটের ধুলোবালি মেখেই লেখকের বেড়ে ওঠা। শৈশব-কৈশোরে ওই হাটের চায়ের দোকানে চা বা সর-ওঠা দুধে তন্দুর রুটি খাওয়ার স্মৃতি আজও অমলিন।

ওই হাটে লেখকের নানা-র একটি পোশাকের দোকান ছিল। মূলত হাটবারেই তিনি সেখানে বসতেন। একটি দোচালা টিনের শেড ছোট ছোট ভাগ করে তাতে লুঙ্গি, শাড়ি, গামছা, সেন্টু গেঞ্জি ইত্যাদি পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসতেন ব্যবসায়ীরা। ঈদের মৌসুমে কয়েকটি হাটবার গভীর রাত পর্যন্ত জমজমাট থাকত। নানার সঙ্গে বসে থাকতেন লেখক। ঈদের সময় তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন কখন নানা তাকে নতুন লুঙ্গি দেবেন। পছন্দের লুঙ্গিটি পাওয়ার পর যে আনন্দ হতো, তা ভোলার নয়। কাছেই একজন দরজি বসে থাকতেন, সেলাই করে দেওয়ার জন্য। সেই নতুন লুঙ্গি নিয়ে বাড়ি ফেরার স্মৃতি আজও অম্লান।