রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সময়োপযোগী উদ্যোগ ও জোরালো অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি যে আশার বাণী শুনিয়েছিলেন, তা কেবল শরণার্থীদের মনেই নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল। বিশেষ করে জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতারের সেই মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সেই সফরে ড. ইউনূস ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর রোহিঙ্গারা তাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে পালন করতে পারবেন। এমন সাহসী ও সুনির্দিষ্ট আশ্বাস এর আগে কোনো সরকারপ্রধানের কাছ থেকে আসেনি। তবে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ কেউ একে নিছক কৌশল হিসেবে দেখলেও, সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো ছিল বেশ দৃশ্যমান। বিশেষ করে ২০২৪ সালে রোহিঙ্গা বিষয়ক ‘উচ্চ-প্রতিনিধি’ নিয়োগের বিষয়টি প্রমাণ করে যে, সরকার এই সংকট সমাধানে কতটা আন্তরিক।
রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক ফোরামে জোরালোভাবে তুলে ধরতে বিমসটেকসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্মেলনে বাংলাদেশ তার কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে বর্তমান সময়েই এই বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। তবে ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণ এবং মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে নানামুখী চ্যালেঞ্জ রয়েই গেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























