হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ‘জিয়ার খাল’ আজ দখল, দূষণ এবং খননের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। একসময়ের প্রাণবন্ত এই খালটি এখন কেবলই স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার সরকারের আমলে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি ১৯৭৮ সালের দিকে শায়েস্তাগঞ্জে খাল খননের উদ্বোধন করেছিলেন, যা আজও ‘জিয়ার খাল’ নামে পরিচিত। স্থানীয় কৃষক ও কৃষিজীবী মানুষেরা জানান, এই খালটি ছিল তাদের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। মাঘ-ফাল্গুনের শুষ্ক মৌসুমে যখন পুকুর, ডোবা ও বিলের পানি শুকিয়ে যেত এবং নলকূপ দিয়ে পানি তোলার ব্যবস্থা সীমিত ছিল, তখন এই খালটিই ছিল ইরি-বোরো ফসল এবং আলু-গমসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসলের সেচের প্রধান উৎস। খালটির অভাবে কৃষকরা বছরের পর বছর ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হতো। অন্যদিকে, বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই শায়েস্তাগঞ্জ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও জলাবদ্ধতা দেখা দিত, যা নিষ্কাশনের কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় তীব্র আকার ধারণ করত।
শায়েস্তাগঞ্জের প্রবীণ রাজনীতিবিদ করম আলী বলেন, খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে জিয়াউর রহমান নিজে শায়েস্তাগঞ্জে এসেছিলেন। সেদিন তিনি শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় বক্তৃতা করেছিলেন এবং পরে শ্রমিকদের সঙ্গে নিজেও মাটি কাটার কাজে অংশ নিয়েছিলেন। এই স্মৃতি আজও এলাকাবাসীর মনে অম্লান। তারা সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই খালটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনঃখনন করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হোক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকার লেনজাপাড়া, দাউদনগর, নিজগাঁও, কুতুবের চক হয়ে ঢাকা-সিলেট রেলপথের পাশ দিয়ে পশ্চিম বড়চর পর্যন্ত বয়ে চলেছে ‘জিয়ার খাল’। বর্তমানে এই খালটি সংস্কারের অভাবে তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আ স ম আফজল আলী বলেন, জিয়ার খাল শুধু একটি জলাধার নয়, এটি এলাকার কৃষি পরিবেশ ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রিপোর্টারের নাম 
























