ঢাকা ১১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে বিধ্বস্ত বাংলা, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বয়ে যাওয়া তাণ্ডবশালী কালবৈশাখী ঝড় এবং শিলাবৃষ্টি কৃষকদের জীবনে নেমে এনেছে চরম বিপর্যয়। ফসলের মাঠ, ঘরবাড়ি এবং অসংখ্য কলাগাছ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়েছে।

নওগাঁয় আগাম কালবৈশাখী এবং শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ৭৩১.৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে কলা, ভুট্টা, গম, আলু এবং শাকসবজি অন্যতম। বিশেষ করে কলা বাগানগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত রোববার প্রায় ৩০ মিনিটের এই ঝড়ো বৃষ্টি জেলার ১১টি উপজেলাতেই তাণ্ডব চালিয়েছে। কৃষি বিভাগ কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দিচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই দুর্যোগে ২২৫ হেক্টর জমির কলা, ২১৬ হেক্টর জমির ভুট্টা, ২১৬ হেক্টর জমির গম, ২৫ হেক্টর জমির আলু এবং ৪৯.৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি নষ্ট হয়েছে। প্রায় ১৬৭ কোটি টাকার কলা এবং ৫ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ভুট্টা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মাঠ ও বাগানগুলোতে দেখা গেছে, কলা, পেঁপে, ভুট্টা, গম, আলু এবং শাকসবজির গাছ মাটিতে পড়ে আছে। অনেক কলা গাছ পরিপক্ব হওয়ার আগেই ভেঙে পড়েছে, যা আর এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যেই কৃষকের ঘরে ওঠার কথা ছিল। পেঁপে গাছের অবস্থাও একই। অনেক জমির গমের শীষ এবং ভুট্টার গাছ হেলে পড়েছে।

বদলগাছী উপজেলার কুমারবাড়ি গ্রামের কলাচাষি জুয়েল রানা জানান, গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার তিনি প্রায় ছয় বিঘা জমিতে কলার বাগান করেছিলেন। কিন্তু এক রাতের কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে তার বাগানের অর্ধেকের বেশি গাছ ভেঙে পড়েছে। নওগাঁ সদর উপজেলার চুনিয়াগাড়ী গ্রামের কৃষক আহসান হাবিব বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে তার দুই বিঘা জমির গম হেলে পড়েছে। এই সময়ে এমন দুর্যোগ সব লন্ডভন্ড করে দিয়েছে।

নওগাঁর উপপরিচালক হোমায়রা মণ্ডল জানিয়েছেন, রোববার রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে যেসব জমির কলা, ভুট্টা এবং পেঁপে আক্রান্ত হয়েছে, সেই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়। জেলার সব উপজেলা থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করতে কিছুটা সময় লেগেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদ্ভুত অজুহাতে মিয়ানমারে স্যানিটারি প্যাড নিষিদ্ধ করল জান্তা সরকার

কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে বিধ্বস্ত বাংলা, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট সময় : ১০:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বয়ে যাওয়া তাণ্ডবশালী কালবৈশাখী ঝড় এবং শিলাবৃষ্টি কৃষকদের জীবনে নেমে এনেছে চরম বিপর্যয়। ফসলের মাঠ, ঘরবাড়ি এবং অসংখ্য কলাগাছ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়েছে।

নওগাঁয় আগাম কালবৈশাখী এবং শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ৭৩১.৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে কলা, ভুট্টা, গম, আলু এবং শাকসবজি অন্যতম। বিশেষ করে কলা বাগানগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত রোববার প্রায় ৩০ মিনিটের এই ঝড়ো বৃষ্টি জেলার ১১টি উপজেলাতেই তাণ্ডব চালিয়েছে। কৃষি বিভাগ কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দিচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই দুর্যোগে ২২৫ হেক্টর জমির কলা, ২১৬ হেক্টর জমির ভুট্টা, ২১৬ হেক্টর জমির গম, ২৫ হেক্টর জমির আলু এবং ৪৯.৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি নষ্ট হয়েছে। প্রায় ১৬৭ কোটি টাকার কলা এবং ৫ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ভুট্টা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মাঠ ও বাগানগুলোতে দেখা গেছে, কলা, পেঁপে, ভুট্টা, গম, আলু এবং শাকসবজির গাছ মাটিতে পড়ে আছে। অনেক কলা গাছ পরিপক্ব হওয়ার আগেই ভেঙে পড়েছে, যা আর এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যেই কৃষকের ঘরে ওঠার কথা ছিল। পেঁপে গাছের অবস্থাও একই। অনেক জমির গমের শীষ এবং ভুট্টার গাছ হেলে পড়েছে।

বদলগাছী উপজেলার কুমারবাড়ি গ্রামের কলাচাষি জুয়েল রানা জানান, গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার তিনি প্রায় ছয় বিঘা জমিতে কলার বাগান করেছিলেন। কিন্তু এক রাতের কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে তার বাগানের অর্ধেকের বেশি গাছ ভেঙে পড়েছে। নওগাঁ সদর উপজেলার চুনিয়াগাড়ী গ্রামের কৃষক আহসান হাবিব বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে তার দুই বিঘা জমির গম হেলে পড়েছে। এই সময়ে এমন দুর্যোগ সব লন্ডভন্ড করে দিয়েছে।

নওগাঁর উপপরিচালক হোমায়রা মণ্ডল জানিয়েছেন, রোববার রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে যেসব জমির কলা, ভুট্টা এবং পেঁপে আক্রান্ত হয়েছে, সেই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়। জেলার সব উপজেলা থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করতে কিছুটা সময় লেগেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।