উঁচু-নিচু সবুজ পাহাড়, পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে বিস্তৃত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম জলাশয় কাপ্তাই হ্রদ এবং পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি ঝিরি-ঝরনা – প্রকৃতির এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য নিয়ে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। শীতের শেষে গাছে গাছে নতুন পল্লব প্রকৃতিকে আরও সবুজ ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
রাঙামাটিতে গড়ে ওঠা বিভিন্ন পর্যটন স্পট, রিসোর্ট, আবাসিক হোটেল-মোটেল এবং ট্যুরিস্ট বোটগুলো ঈদকে ঘিরে নতুন সাজে সেজে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় এবার পর্যটক সমাগম বাড়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের কারণে অনেকে ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করছেন বা বাতিল করছেন বলে জানা গেছে।
তবে, ঈদ মৌসুমকে ঘিরে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। পুরো রমজান মাস ধরে পর্যটন স্পট, রিসোর্ট, হোটেল-মোটেল, ট্যুরিস্ট বোট এবং রেস্টুরেন্টগুলো সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। শহরের হোটেল-মোটেল মালিকরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটির জন্য বেশিরভাগ রুম এরই মধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে অনেক হোটেল বিশেষ ছাড়ের ঘোষণাও দিয়েছে। পর্যটন করপোরেশনের মোটেলগুলোও তাদের আতিথেয়তায় নতুনত্ব এনেছে।
রাঙামাটির অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য সাজেক ভ্যালিতেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। পাহাড়ের সঙ্গে মেঘের মিতালি দেখতে আসা পর্যটকদের জন্য রিসোর্টগুলো আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। পাহাড়ের চূড়ায় বসে মেঘ দেখার নতুন স্পটগুলো আরও আধুনিক করে তৈরি করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে সাদা পোশাকে নজরদারির পাশাপাশি টহল বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনো পর্যটক হয়রানির শিকার না হন।
রিপোর্টারের নাম 
























