ময়মনসিংহে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জরুরি বৈঠক করেছে এবং আগাম প্রস্তুতির উদ্যোগ নিয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই যেভাবে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে, তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জেলায় তিন হাজার ২১৯ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল, যা ছিল উদ্বেগজনক। এর মধ্যে বেশিরভাগ রোগী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত বছর মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে বেশিরভাগের বয়স ছিল ৫০-৬০ বছরের মধ্যে এবং নান্দাইল উপজেলা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছিল। চলতি বছরও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। চলতি বছরের ১৩ মার্চ পর্যন্ত জেলায় ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মহির উদ্দীন জানিয়েছেন, বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রধান প্রজননস্থল। পরিত্যক্ত পাত্র, নর্দমা, নির্মাণাধীন ভবনের গর্ত, ফুলের টব এবং পরিত্যক্ত টায়ারগুলোতেও এডিস মশা বংশবৃদ্ধি করতে পারে। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু মশার ডিম ৮-৯ মাস পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে এবং বৃষ্টির পানি পেলেই তা লার্ভায় পরিণত হয়ে ডেঙ্গু বিস্তার করে। কার্যকর ফগিংয়ের জন্য সকাল ৭টার আগে এবং বিকাল ৫টার পর উপযুক্ত সময় হলেও, অনেক ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানা হয় না। এছাড়া ওষুধ ব্যবহারের সঠিক মাত্রা নির্ধারণ না করায় ফগিং কার্যক্রম প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না, যা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
রিপোর্টারের নাম 
























