ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

সন্দ্বীপে ২৪ ঘণ্টা পেরোলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি, চরম দুর্ভোগে দ্বীপবাসী

সোমবার দিবাগত রাতে শুরু হওয়া তীব্র ঝড়ো বাতাসে সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় অন্ধকারে ডুবে আছে দ্বীপের বিশাল জনগোষ্ঠী। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে দক্ষিণ সন্দ্বীপের কিছু অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা সম্ভব হলেও, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উত্তর সন্দ্বীপের অধিকাংশ এলাকা এখনো বিদ্যুৎহীন। এর ফলে বাউরিয়া, গাছুয়া, কালাপানিয়া, সন্তোষপুর এবং দীর্ঘাপাড় ইউনিয়নের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানস বিশ্বাস জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ওয়ার্ডে থাকা রোগীরা সীমাহীন কষ্ট পাচ্ছেন এবং নেবুলাইজার বা জরুরি মেশিনগুলো চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করবে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সর্বশেষ জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে মেরামত কাজ কতদূর এগিয়েছে বা কখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে জনমনে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

ব্যবসায়িক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে আকবর হাটের ক্ষুদ্র কোল্ড স্টোরেজ মালিক সোহরাব জানিয়েছেন, ফ্রিজে রাখা হাজার হাজার টাকার পচনশীল পণ্য নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। নাজিরহাটের ব্যবসায়ী হান্নান তারেক বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ক্রেতা নেই এবং সারাদিন দোকান অন্ধকার হয়ে থাকছে। এভাবে চললে তাদের ব্যবসায় বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।

বিদ্যুৎহীনতায় ব্যক্তিগত ও সামাজিক দুর্ভোগের কথা জানিয়ে গাছুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এম এইচ রানা বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন এক প্রকার অচল হয়ে পড়েছে। কালাপানিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহিন তার দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন, গতকাল রাত থেকে তারা সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছেন। মোবাইল চার্জ নেই এবং ফ্রিজে রাখা মাছ-মাংস সব গন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

দ্বীপবাসীর জোর দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দ্রুততম সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ সংস্কারের জন্য যেন কার্যকর ও আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যাতে সামান্য ঝড়ে এমন দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক কারবারে ৫ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন, একই পরিবারের ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সন্দ্বীপে ২৪ ঘণ্টা পেরোলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি, চরম দুর্ভোগে দ্বীপবাসী

আপডেট সময় : ১০:০০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

সোমবার দিবাগত রাতে শুরু হওয়া তীব্র ঝড়ো বাতাসে সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় অন্ধকারে ডুবে আছে দ্বীপের বিশাল জনগোষ্ঠী। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে দক্ষিণ সন্দ্বীপের কিছু অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা সম্ভব হলেও, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উত্তর সন্দ্বীপের অধিকাংশ এলাকা এখনো বিদ্যুৎহীন। এর ফলে বাউরিয়া, গাছুয়া, কালাপানিয়া, সন্তোষপুর এবং দীর্ঘাপাড় ইউনিয়নের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানস বিশ্বাস জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ওয়ার্ডে থাকা রোগীরা সীমাহীন কষ্ট পাচ্ছেন এবং নেবুলাইজার বা জরুরি মেশিনগুলো চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করবে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সর্বশেষ জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে মেরামত কাজ কতদূর এগিয়েছে বা কখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে জনমনে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

ব্যবসায়িক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে আকবর হাটের ক্ষুদ্র কোল্ড স্টোরেজ মালিক সোহরাব জানিয়েছেন, ফ্রিজে রাখা হাজার হাজার টাকার পচনশীল পণ্য নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। নাজিরহাটের ব্যবসায়ী হান্নান তারেক বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ক্রেতা নেই এবং সারাদিন দোকান অন্ধকার হয়ে থাকছে। এভাবে চললে তাদের ব্যবসায় বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।

বিদ্যুৎহীনতায় ব্যক্তিগত ও সামাজিক দুর্ভোগের কথা জানিয়ে গাছুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এম এইচ রানা বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন এক প্রকার অচল হয়ে পড়েছে। কালাপানিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহিন তার দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন, গতকাল রাত থেকে তারা সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছেন। মোবাইল চার্জ নেই এবং ফ্রিজে রাখা মাছ-মাংস সব গন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

দ্বীপবাসীর জোর দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দ্রুততম সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ সংস্কারের জন্য যেন কার্যকর ও আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যাতে সামান্য ঝড়ে এমন দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।