বাংলাদেশে রমজান মাস কেবল সংযম ও ধর্মীয় আরাধনার সময় নয়, এটি দেশের অর্থনীতিতে এক বিশেষ স্পন্দন জাগিয়ে তোলে। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ রোজা পালন করায় এই মাস জুড়ে ভোগ, বাণিজ্য, পরিবহন এবং সম্পদ বণ্টনে এক অভূতপূর্ব গতিশীলতা দেখা যায়। অর্থনীতিবিদরা প্রায়শই এই সময়কার ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ‘ট্রিলিয়ন টাকার রমজান অর্থনীতি’ হিসেবে অভিহিত করেন, যা অল্প সময়ের মধ্যে দেশের আর্থিক প্রবাহকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।
রমজান মাস জুড়ে ভোক্তা ব্যয়ের এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে। ইফতার ও সাহরির জন্য খাদ্যপণ্যের চাহিদা যেমন তুঙ্গে ওঠে, তেমনই ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে নতুন পোশাক ও জুতার কেনাকাটা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। ছোলা, চিনি, ভোজ্যতেল, খেজুর, ডাল ও মসলার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের চাহিদা এই মাসে কয়েক গুণ বেড়ে যায়। শুধু রমজান মাসেই দেশে প্রায় তিন লাখ টন ভোজ্যতেল ও তিন লাখ টন চিনির চাহিদা তৈরি হয়। এই অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে সরকার প্রায়শই আমদানি নীতিতে শিথিলতা আনে এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ বাড়ায়।
রমজান ও ঈদ ঘিরে দেশে প্রায় ২.৫ লাখ কোটি টাকার বাণিজ্য হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। অনেক পরিবারের মোট মৌসুমি ব্যয়ের ৭০-৮০ শতাংশই পোশাক ও জুতার পেছনে ব্যয় হয়। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, অনেক খুচরা বিক্রেতা তাদের বার্ষিক আয়ের ৬০-৭০ শতাংশই অর্জন করেন ঈদের আগের কয়েক সপ্তাহে। এই কারণে ব্যবসায়ীরা রমজান মাসকে প্রায়ই ‘সোনালি মৌসুম’ হিসেবে অভিহিত করেন। এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুধু বড় শহর বা শপিং মলেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নরসিংদীর মতো অঞ্চলের তাঁতশিল্পেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। শহরের ক্রেতাদের কেনাকাটা গ্রামীণ তাঁতিদের জীবিকা নির্বাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও, ফুটপাতের দোকানদার, অস্থায়ী বাজারের বিক্রেতা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্যও এই সময়টি অত্যন্ত লাভজনক হয়ে ওঠে।
রিপোর্টারের নাম 

























