ঈদ পরবর্তী সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় অবস্থিত সেতুর জরুরি মেরামত কাজের জন্য চট্টগ্রামমুখী লেন আগামী চার দিন বন্ধ থাকবে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানিয়েছে, এই সময়কালে যান চলাচল বিকল্প পথে পরিচালিত হবে এবং পরবর্তীতে আরও কয়েক দিন এক লেনে যান চলাচল করবে। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে ঈদের ফিরতি যাত্রায় যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কিছুটা দুর্ভোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সড়ক বিভাগ বলছে, এবারের ঈদে দীর্ঘ ছুটি থাকায় এবং ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীদের চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকায় মেরামতের জন্য এই সময়টিকে উপযুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সড়ক বিভাগ ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর সেতুর মেরামত কাজ আগামী ২২ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত চলবে। এর মধ্যে ২২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রামমুখী লেন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এরপর ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত যান চলাচল এক লেনে সীমাবদ্ধ থাকবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বিকল্প হিসেবে বেশ কিছু সড়কের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের র্যাব ক্যাম্প সংলগ্ন ইউটার্ন থেকে রামপুর ব্রিজ পরবর্তী ইউটার্ন পর্যন্ত দুই লেনকে সাময়িকভাবে একমুখী ব্যবহার। এছাড়াও ফতেহপুর স্টারলাইন পাম্প হয়ে সালাউদ্দিন মোড়, ট্রাক রোড, জিরো পয়েন্ট হয়ে লালপোল, বিসিক মোড় (গ্যাস কোম্পানি) হয়ে দেওয়ানগঞ্জ মোড়, মহিপাল শহীদ শহিদুল্লা কায়সার সড়ক হয়ে ট্রাক রোড, জিরো পয়েন্ট হয়ে লালপোল সংযোগ সড়ক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এসব বিকল্প সড়কের বেশিরভাগই শহরের অভ্যন্তরীণ এবং ভারী যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। এর ফলে শহরের ভেতরে যানবাহনের চাপ বেড়ে যানজট সৃষ্টি হওয়ার এবং জনদুর্ভোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের আগে ও পরে এই মহাসড়কটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত রুটে পরিণত হয়। এই সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাড়ি ফেরা ও কর্মস্থলে ফেরার জন্য এই সড়কটি ব্যবহার করেন। তাই এই সময় লেন বন্ধ থাকলে কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হতে পারে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ফেনী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা জানান, ২০২৪ সালের বন্যায় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দ্রুত মেরামত কাজ সম্পন্ন করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, এক লেন দিয়ে যান চলাচল অব্যাহত থাকায় সাময়িক কিছু চাপ থাকলেও বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার শঙ্কা নেই। ঈদ পরবর্তী সময়ে কাজটি করার উপযুক্ত সময় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























