ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

সাংবাদিকের উপর হামলার বিচার ও নিরাপত্তা দাবিতে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সাংবাদিক কালাম তালুকদারের ওপর ছাত্রদল নেতাদের হামলার প্রতিবাদে তার স্ত্রী মিনু খানম বিচার এবং নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি সরকারের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছেন এবং দ্রুত বিচার ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার সকালে কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরাম কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মিনু খানম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি জানান, সাংবাদিক কালাম তালুকদারের ওপর হামলার বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি ও তার পরিবার চরমভাবে উদ্বিগ্ন ও হতাশ।

সংবাদ সম্মেলনে মিনু খানম চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন। এই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, কোটালীপাড়া থানায় দায়ের করা অভিযোগ দ্রুত এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা, হামলার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা, গ্রেপ্তারের ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া এবং কোটালীপাড়া সহ সারাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা।

লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক ভোরের আলো পত্রিকার সাংবাদিক কালাম তালুকদার। সভা চলাকালে তিনি কক্ষ থেকে বের হলে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখ, সদস্য সচিব নিলয় হাওলাদার মোস্তফা এবং ধারাবাশাইল সরকারি আদর্শ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হামিম বিশ্বাস সহ প্রায় ১০-১২ জন তাকে অতর্কিতভাবে মারধর করেন। হামলাকারীরা তাকে টেনে-হিঁচড়ে নিচতলায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিক অভিযোগ করার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা না নেওয়াকে চরম দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতি বলে অভিহিত করেছেন মিনু খানম। তিনি বলেন, এ ধরনের নিষ্ক্রিয়তা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে এবং আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে। অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এই ঘটনায় জেলার কর্মরত সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশা-শ্রেণীর মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভুল সময়ে উইকেট পতনই হারের মূল কারণ, স্বীকারোক্তি নিক কেলির

সাংবাদিকের উপর হামলার বিচার ও নিরাপত্তা দাবিতে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৯:৪১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সাংবাদিক কালাম তালুকদারের ওপর ছাত্রদল নেতাদের হামলার প্রতিবাদে তার স্ত্রী মিনু খানম বিচার এবং নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি সরকারের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছেন এবং দ্রুত বিচার ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার সকালে কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরাম কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মিনু খানম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি জানান, সাংবাদিক কালাম তালুকদারের ওপর হামলার বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি ও তার পরিবার চরমভাবে উদ্বিগ্ন ও হতাশ।

সংবাদ সম্মেলনে মিনু খানম চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন। এই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, কোটালীপাড়া থানায় দায়ের করা অভিযোগ দ্রুত এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা, হামলার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা, গ্রেপ্তারের ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া এবং কোটালীপাড়া সহ সারাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা।

লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক ভোরের আলো পত্রিকার সাংবাদিক কালাম তালুকদার। সভা চলাকালে তিনি কক্ষ থেকে বের হলে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখ, সদস্য সচিব নিলয় হাওলাদার মোস্তফা এবং ধারাবাশাইল সরকারি আদর্শ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হামিম বিশ্বাস সহ প্রায় ১০-১২ জন তাকে অতর্কিতভাবে মারধর করেন। হামলাকারীরা তাকে টেনে-হিঁচড়ে নিচতলায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিক অভিযোগ করার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা না নেওয়াকে চরম দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতি বলে অভিহিত করেছেন মিনু খানম। তিনি বলেন, এ ধরনের নিষ্ক্রিয়তা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে এবং আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে। অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এই ঘটনায় জেলার কর্মরত সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশা-শ্রেণীর মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।