ঢাকা ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

বিশ্বরাজনীতির পালাবদল: একক আধিপত্যের অবসান ও নতুন মেরুকরণের পথে পৃথিবী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিবর্তন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বড় ধরনের সংঘাত বা যুদ্ধগুলো বরাবরই বিশ্বব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। কোনো প্রতিষ্ঠিত পরাশক্তির প্রভাব যখন ম্লান হতে শুরু করে এবং নতুন কোনো শক্তির উত্থান ঘটে, তখন বিদ্যমান বৈশ্বিক কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং নতুন সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়। এই রূপান্তর প্রক্রিয়াটি কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং এর গভীরে রাজনৈতিক দর্শন, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং ঐতিহাসিক বিবর্তনের এক জটিল আন্তঃসম্পর্ক বিদ্যমান।

তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে একে ‘পাওয়ার ট্রানজিশন’ বা ক্ষমতার রূপান্তর বলা হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এএফকে ওরগানস্কির মতে, যখন কোনো উদীয়মান শক্তি দ্রুতগতিতে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে এবং বর্তমান পরাশক্তির সমকক্ষ হওয়ার চেষ্টা করে, তখনই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলালে দেখা যায়, ইউরোপীয় সাম্রাজ্যগুলোর ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ফলেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল। ব্রিটিশ, জার্মান ও রুশ সাম্রাজ্যের মধ্যকার সেই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব পুরো বিশ্বকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ ঘটে, যা স্নায়ুযুদ্ধ নামে পরিচিত। সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন—এই দুই পরাশক্তির দ্বিমেরু ব্যবস্থায় বিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তবে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে এই ব্যবস্থার অবসান ঘটে এবং বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য বা ‘ইউনিপোলার মোমেন্ট’ শুরু হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসে খুব কম রাষ্ট্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো এমন ব্যাপক সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

তবে ইতিহাসের অমোঘ নিয়ম অনুযায়ী কোনো আধিপত্যই চিরস্থায়ী নয়। একবিংশ শতাব্দীতে এসে সেই একক মেরুকরণ ব্যবস্থার ভিত্তি নড়বড়ে হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে চীনের অভাবনীয় অর্থনৈতিক উত্থান এবং রাশিয়ার নতুন করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বিশ্ব রাজনীতিতে এক বহুমুখী মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানের এই রূপান্তরকাল সম্ভবত একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার জন্ম দিতে যাচ্ছে, যেখানে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু আর কোনো নির্দিষ্ট একটি রাষ্ট্রের হাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নরসিংদীতে কিশোর হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

বিশ্বরাজনীতির পালাবদল: একক আধিপত্যের অবসান ও নতুন মেরুকরণের পথে পৃথিবী

আপডেট সময় : ১০:১১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিবর্তন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বড় ধরনের সংঘাত বা যুদ্ধগুলো বরাবরই বিশ্বব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। কোনো প্রতিষ্ঠিত পরাশক্তির প্রভাব যখন ম্লান হতে শুরু করে এবং নতুন কোনো শক্তির উত্থান ঘটে, তখন বিদ্যমান বৈশ্বিক কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং নতুন সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়। এই রূপান্তর প্রক্রিয়াটি কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং এর গভীরে রাজনৈতিক দর্শন, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং ঐতিহাসিক বিবর্তনের এক জটিল আন্তঃসম্পর্ক বিদ্যমান।

তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে একে ‘পাওয়ার ট্রানজিশন’ বা ক্ষমতার রূপান্তর বলা হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এএফকে ওরগানস্কির মতে, যখন কোনো উদীয়মান শক্তি দ্রুতগতিতে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে এবং বর্তমান পরাশক্তির সমকক্ষ হওয়ার চেষ্টা করে, তখনই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলালে দেখা যায়, ইউরোপীয় সাম্রাজ্যগুলোর ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ফলেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল। ব্রিটিশ, জার্মান ও রুশ সাম্রাজ্যের মধ্যকার সেই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব পুরো বিশ্বকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ ঘটে, যা স্নায়ুযুদ্ধ নামে পরিচিত। সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন—এই দুই পরাশক্তির দ্বিমেরু ব্যবস্থায় বিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তবে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে এই ব্যবস্থার অবসান ঘটে এবং বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য বা ‘ইউনিপোলার মোমেন্ট’ শুরু হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসে খুব কম রাষ্ট্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো এমন ব্যাপক সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

তবে ইতিহাসের অমোঘ নিয়ম অনুযায়ী কোনো আধিপত্যই চিরস্থায়ী নয়। একবিংশ শতাব্দীতে এসে সেই একক মেরুকরণ ব্যবস্থার ভিত্তি নড়বড়ে হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে চীনের অভাবনীয় অর্থনৈতিক উত্থান এবং রাশিয়ার নতুন করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বিশ্ব রাজনীতিতে এক বহুমুখী মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানের এই রূপান্তরকাল সম্ভবত একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার জন্ম দিতে যাচ্ছে, যেখানে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু আর কোনো নির্দিষ্ট একটি রাষ্ট্রের হাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।