ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

ইরানে সামরিক অভিযানের ব্যাপ্তি বাড়াচ্ছে ইসরায়েল, তিন সপ্তাহের নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরও অন্তত তিন সপ্তাহ দীর্ঘায়িত করার বিস্তারিত পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। সোমবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি সাংবাদিকদের জানান, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেশটির সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।

ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, ইরানে এখনো শত শত লক্ষ্যবস্তু অবশিষ্ট রয়েছে যা তাদের রাডারে রয়েছে। তেহরানকে সামরিকভাবে পঙ্গু করে দিতে ইতোমধ্যে ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি রিজার্ভ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, তারা কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে রাজি হননি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও কোনো বার্তা আদান-প্রদান করা হয়নি।

এই যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা চরম সংকটে পড়েছে। ইরানি ড্রোন হামলার মুখে দুবাই বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহের পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা নতুন করে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে একটি আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নেটো জোটের সদস্যরা যদি এই অভিযানে ওয়াশিংটনের পাশে না দাঁড়ায়, তবে এই জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নদী ও খাল খনন প্রকল্পে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির

ইরানে সামরিক অভিযানের ব্যাপ্তি বাড়াচ্ছে ইসরায়েল, তিন সপ্তাহের নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা

আপডেট সময় : ১০:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরও অন্তত তিন সপ্তাহ দীর্ঘায়িত করার বিস্তারিত পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। সোমবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি সাংবাদিকদের জানান, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেশটির সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।

ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, ইরানে এখনো শত শত লক্ষ্যবস্তু অবশিষ্ট রয়েছে যা তাদের রাডারে রয়েছে। তেহরানকে সামরিকভাবে পঙ্গু করে দিতে ইতোমধ্যে ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি রিজার্ভ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, তারা কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে রাজি হননি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও কোনো বার্তা আদান-প্রদান করা হয়নি।

এই যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা চরম সংকটে পড়েছে। ইরানি ড্রোন হামলার মুখে দুবাই বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহের পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা নতুন করে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে একটি আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নেটো জোটের সদস্যরা যদি এই অভিযানে ওয়াশিংটনের পাশে না দাঁড়ায়, তবে এই জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।