ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

ভারতের ‘র’ ও আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ মার্কিন কমিশনের

ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতের কট্টরপন্থী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইংয়ের (র) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। তাদের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে ভারতকে ‘কান্ট্রি অব পার্টিকুলার কনসার্ন’ (সিপিসি) হিসেবে ঘোষণারও সুপারিশ করা হয়েছে।

ইউএসসিআইআরএফের মতে, ভারতে ২০২৫ সালে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। সিপিসি ক্যাটাগরিতে সাধারণত সেইসব দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত, চলমান ও গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। ইউএসসিআইআরএফ হলো একটি স্বাধীন ও দ্বিদলীয় মার্কিন ফেডারেল সংস্থা, যা বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় স্বাধীনতার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কংগ্রেসকে নীতিগত সুপারিশ প্রদান করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতের সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তাদের উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে নতুন আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেছে। বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মান্তরবিরোধী আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে কারাদণ্ডের বিধান বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, কর্তৃপক্ষ নাগরিক ও ধর্মীয় শরণার্থীদের ব্যাপক আটক ও অবৈধ বহিষ্কারে ভূমিকা রেখেছে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় জড়িত উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

কমিশন তাদের প্রতিবেদনে কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে মহারাষ্ট্রে ১৭ শতকের মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি অপসারণের দাবিতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) ডাকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে বহু মানুষ আহত হন। জুনে ওডিশায় ভিএইচপি নেতৃত্বাধীন অন্তত ২০টি বিক্ষোভে কোরআন অবমাননার অভিযোগ ওঠে এবং হামলায় আটজন আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে পুলিশের হস্তক্ষেপ ছিল না বলেও দাবি করা হয়েছে। এছাড়াও, মে মাসে ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আটক করে মিয়ানমারের উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিয়ে গিয়ে লাইফ ভেস্ট দিয়ে সাঁতরে তীরে যেতে বাধ্য করার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে প্রতিটি মৃত খাল পুনঃখননের ঘোষণা দিলেন প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত

ভারতের ‘র’ ও আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ মার্কিন কমিশনের

আপডেট সময় : ০৯:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতের কট্টরপন্থী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইংয়ের (র) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। তাদের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে ভারতকে ‘কান্ট্রি অব পার্টিকুলার কনসার্ন’ (সিপিসি) হিসেবে ঘোষণারও সুপারিশ করা হয়েছে।

ইউএসসিআইআরএফের মতে, ভারতে ২০২৫ সালে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। সিপিসি ক্যাটাগরিতে সাধারণত সেইসব দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত, চলমান ও গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। ইউএসসিআইআরএফ হলো একটি স্বাধীন ও দ্বিদলীয় মার্কিন ফেডারেল সংস্থা, যা বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় স্বাধীনতার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কংগ্রেসকে নীতিগত সুপারিশ প্রদান করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতের সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তাদের উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে নতুন আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেছে। বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মান্তরবিরোধী আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে কারাদণ্ডের বিধান বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, কর্তৃপক্ষ নাগরিক ও ধর্মীয় শরণার্থীদের ব্যাপক আটক ও অবৈধ বহিষ্কারে ভূমিকা রেখেছে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় জড়িত উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

কমিশন তাদের প্রতিবেদনে কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে মহারাষ্ট্রে ১৭ শতকের মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি অপসারণের দাবিতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) ডাকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে বহু মানুষ আহত হন। জুনে ওডিশায় ভিএইচপি নেতৃত্বাধীন অন্তত ২০টি বিক্ষোভে কোরআন অবমাননার অভিযোগ ওঠে এবং হামলায় আটজন আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে পুলিশের হস্তক্ষেপ ছিল না বলেও দাবি করা হয়েছে। এছাড়াও, মে মাসে ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আটক করে মিয়ানমারের উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিয়ে গিয়ে লাইফ ভেস্ট দিয়ে সাঁতরে তীরে যেতে বাধ্য করার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়।