পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার মধ্যে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রাথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাতে কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন একটি সরু গলিতে এই ঘটনা ঘটে। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নিরঙ্কুশ জয় লাভের পর থেকেই যে রাজনৈতিক সহিংসতা শুরু হয়েছে, তার মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ড শহর ও শহরতলিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার রাতে বাজি ফোটার মতো বিকট শব্দ শোনা যায়। বাইরে বেরিয়ে দেখা যায়, চন্দ্রনাথ রাথকে গুলি করে হত্যা করে দুই আততায়ী পালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে দেখা যায়, যে গাড়িতে তিনি ছিলেন, তার জানালার ভাঙা কাঁচ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ একজনের মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় এ পর্যন্ত চারজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ২০০টি এফআইআর দায়ের করেছে এবং ৪৩৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া, প্রায় ১১০০ জনকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এই সহিংসতা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রায়ও প্রভাব ফেলছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পুলিশি ব্যারিকেডের কারণে অনেকে কাজে যেতে পারছেন না, যা তাদের দৈনিক রোজগারে প্রভাব ফেলছে। এই ধরনের সহিংসতায় কেবল সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে তারা মন্তব্য করেন।
শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মুসলিম অধ্যুষিত তপসিয়া এলাকাতেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সেখানে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা তৃণমূলের অফিস ভাঙচুর করার চেষ্টা করলে বাসিন্দারা তাদের বাধা দেয়। কসবা বিধানসভার বিধায়ক জাভেদ আহমেদ খান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অন্যদিকে, নিউ মার্কেট এলাকার থমথমে পরিস্থিতি নিয়ে দোকানিরা জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর সাধারণত দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়, কিন্তু এবার তিনদিন পরেও এলাকা জনশূন্য। তারা আরও জানান, এই এলাকার একটি তৃণমূল অফিস বুলডোজার দিয়ে ভেঙে সেখানে বিজেপির পতাকা লাগানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 


















