কুড়িগ্রামে আকস্মিক ঝড় ও ভয়াবহ শিলাবৃষ্টিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। গত শনিবার রাতে চিলমারী উপজেলার গাজিরপাড়া খেয়াঘাট এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। একইসঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হঠাৎ করেই প্রচণ্ড ঝড় ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় মিন্টু মিয়া ও ফরিদ উদ্দিন নামের দুজন গাজিরপাড়া খেয়াঘাটে বাঁধা তাদের নৌকা নিরাপদ করতে গেলে তীব্র ঘূর্ণিবাতাসের কবলে পড়ে নিখোঁজ হন। ঝড় ও বৃষ্টি থামার পর স্থানীয়রা খোঁজ করে খেয়াঘাট থেকে প্রায় ৫-৬ কিলোমিটার দক্ষিণে বালুতে অর্ধেক শরীর দেবে যাওয়া অবস্থায় মিন্টু মিয়ার লাশ উদ্ধার করেন। তবে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ফরিদ উদ্দিনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
চিলমারী ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, স্থানীয়রা নিখোঁজ ফরিদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন, তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ মেলেনি। চিলমারী মডেল থানার ওসি আলমগীর হোসেনও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মিন্টু মিয়ার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ফরিদ উদ্দিনের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত আছে।
এদিকে, এই আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে জেলার কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারীর বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় শিলা পড়েছে। এতে এসব অঞ্চলের গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ ও মরিচের মতো ফসলের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোজাম্মেল হক জানান, বড় বড় শিলার আঘাতে অনেক ঘরের টিন পর্যন্ত ভেঙে গেছে। এখানকার ভুট্টা চাষের বড় ক্ষতি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের কৃষক মিলন মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “অনেক কষ্ট করে চাষাবাদ করি। একবার বন্যায় খায়, একবার খরায় খায় আর এবার শিলাবৃষ্টিতে সব শেষ করে দিল। বাতাসে ভুট্টা গাছ ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে। চরে যে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলাম, সব পানির নিচে তলিয়ে গেছে।”
রাজিবপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, রৌমারী ও রাজিবপুরে বাতাস এবং শিলাবৃষ্টিতে গম, ভুট্টা, পেঁয়াজসহ বেশ কয়েকটি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। আগামী তিন-চারদিন পর ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হবে।
রিপোর্টারের নাম 



















