ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

মধুচন্দ্রিমা: ভালোবাসার এক মধুর পরিক্রমা, উদ্‌যাপন ও ঐতিহ্যের বিবর্তন

নবদম্পতির জন্য ‘মধুচন্দ্রিমা’ শব্দটি ভালোবাসার এক বিশেষ পরিক্রমা ও উদ্‌যাপনের প্রতীক। ফারসি ভাষায় যাকে বলা হয় ‘মাহ-ই-আসাল’ বা ‘মধুর মাস’, আধুনিক ফরাসি ভাষায় ‘লুন দে মিয়েল’ এবং বাংলায় ‘মধুচন্দ্রিমা’ নামে পরিচিত এই ঐতিহ্যটি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে স্থান করে নিয়েছে।

উনিশ শতকের এক তাত্ত্বিকের মতে, ‘হানিমুন’ শব্দটির উৎপত্তি টিউটোনিক উচ্চ শ্রেণির একটি রীতি থেকে, যেখানে বিয়ের পর ৩০ দিন ধরে মিড বা মেথেগ্লিন নামক মধু দিয়ে তৈরি পানীয় পান করা হতো। তবে ষোড়শ শতাব্দীর ইংরেজ অভিধানকার রিচার্ড হুলোয়েটের মতে, ‘হানিমুন’ এমন নবদম্পতিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি প্রবাদবাক্য, যারা প্রথমে একে অপরের প্রতি গভীর ভালোবাসা অনুভব করে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ভালোবাসার তীব্রতা কমে আসার সম্ভাবনা থাকে। আধুনিক সমাজে অবশ্য ‘মধুচন্দ্রিমা’কে এমন নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয় না; এটি নবদম্পতির নির্বিঘ্নে সময় কাটানোর এবং বিবাহ উদ্‌যাপনের একটি প্রেমময় ও উত্তেজনাপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই বিবেচিত।

পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে নববিবাহিত দম্পতিদের ছুটি কাটাতে বেড়াতে যাওয়ার ঐতিহ্য শুরু হয়েছিল উনিশ শতকে গ্রেট ব্রিটেনে। এই ধারণাটি মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের অভিজাতদের কাছ থেকে এসেছিল, যেখানে সমাজের উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিরা বিয়েতে উপস্থিত হতে না পারা আত্মীয়দের সাথে দেখা করতে বিয়ের পর ভ্রমণ করতেন। কখনও কখনও এই ভ্রমণে বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যরাও সাথে যেতেন।

বর্তমানে ইউরোপে মধুচন্দ্রিমার গুরুত্ব অনেক বেশি। মার্কিনিদের তুলনায় ইউরোপীয় নবদম্পতিদের মধুচন্দ্রিমা উদ্‌যাপনে ভ্রমণের হারও বেশি। বিশেষ করে জার্মানিতে প্রায় ৯১ শতাংশ নবদম্পতি বিয়ের পর মধুচন্দ্রিমা উপলক্ষে বেড়াতে যান, যা সর্বোচ্চ হার।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মধুচন্দ্রিমা একটি বিশাল বাণিজ্য, যার বার্ষিক মূল্য প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। সেখানে একটি দম্পতি তাদের মধুচন্দ্রিমার জন্য গড়ে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ডলার ব্যয় করেন। গত শতকের আশির দশকে নায়াগ্রা জলপ্রপাত আমেরিকানদের কাছে একটি জনপ্রিয় মধুচন্দ্রিমা গন্তব্য ছিল, কিন্তু ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে এর জনপ্রিয়তা এখন কিছুটা কমেছে। পশ্চিমা বিশ্বে শুধু নবদম্পতিদের জন্যই নয়, সম্পর্কের একটি মধুর সময়কে উপলক্ষ করেও মধুচন্দ্রিমা উদ্‌যাপন করা হয়ে থাকে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই নজরদারিতে ফ্যামিলি কার্ড, জালিয়াতি ঠেকাতে আসছে স্মার্ট যাচাই ব্যবস্থা

মধুচন্দ্রিমা: ভালোবাসার এক মধুর পরিক্রমা, উদ্‌যাপন ও ঐতিহ্যের বিবর্তন

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

নবদম্পতির জন্য ‘মধুচন্দ্রিমা’ শব্দটি ভালোবাসার এক বিশেষ পরিক্রমা ও উদ্‌যাপনের প্রতীক। ফারসি ভাষায় যাকে বলা হয় ‘মাহ-ই-আসাল’ বা ‘মধুর মাস’, আধুনিক ফরাসি ভাষায় ‘লুন দে মিয়েল’ এবং বাংলায় ‘মধুচন্দ্রিমা’ নামে পরিচিত এই ঐতিহ্যটি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে স্থান করে নিয়েছে।

উনিশ শতকের এক তাত্ত্বিকের মতে, ‘হানিমুন’ শব্দটির উৎপত্তি টিউটোনিক উচ্চ শ্রেণির একটি রীতি থেকে, যেখানে বিয়ের পর ৩০ দিন ধরে মিড বা মেথেগ্লিন নামক মধু দিয়ে তৈরি পানীয় পান করা হতো। তবে ষোড়শ শতাব্দীর ইংরেজ অভিধানকার রিচার্ড হুলোয়েটের মতে, ‘হানিমুন’ এমন নবদম্পতিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি প্রবাদবাক্য, যারা প্রথমে একে অপরের প্রতি গভীর ভালোবাসা অনুভব করে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ভালোবাসার তীব্রতা কমে আসার সম্ভাবনা থাকে। আধুনিক সমাজে অবশ্য ‘মধুচন্দ্রিমা’কে এমন নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয় না; এটি নবদম্পতির নির্বিঘ্নে সময় কাটানোর এবং বিবাহ উদ্‌যাপনের একটি প্রেমময় ও উত্তেজনাপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই বিবেচিত।

পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে নববিবাহিত দম্পতিদের ছুটি কাটাতে বেড়াতে যাওয়ার ঐতিহ্য শুরু হয়েছিল উনিশ শতকে গ্রেট ব্রিটেনে। এই ধারণাটি মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের অভিজাতদের কাছ থেকে এসেছিল, যেখানে সমাজের উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিরা বিয়েতে উপস্থিত হতে না পারা আত্মীয়দের সাথে দেখা করতে বিয়ের পর ভ্রমণ করতেন। কখনও কখনও এই ভ্রমণে বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যরাও সাথে যেতেন।

বর্তমানে ইউরোপে মধুচন্দ্রিমার গুরুত্ব অনেক বেশি। মার্কিনিদের তুলনায় ইউরোপীয় নবদম্পতিদের মধুচন্দ্রিমা উদ্‌যাপনে ভ্রমণের হারও বেশি। বিশেষ করে জার্মানিতে প্রায় ৯১ শতাংশ নবদম্পতি বিয়ের পর মধুচন্দ্রিমা উপলক্ষে বেড়াতে যান, যা সর্বোচ্চ হার।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মধুচন্দ্রিমা একটি বিশাল বাণিজ্য, যার বার্ষিক মূল্য প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। সেখানে একটি দম্পতি তাদের মধুচন্দ্রিমার জন্য গড়ে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ডলার ব্যয় করেন। গত শতকের আশির দশকে নায়াগ্রা জলপ্রপাত আমেরিকানদের কাছে একটি জনপ্রিয় মধুচন্দ্রিমা গন্তব্য ছিল, কিন্তু ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে এর জনপ্রিয়তা এখন কিছুটা কমেছে। পশ্চিমা বিশ্বে শুধু নবদম্পতিদের জন্যই নয়, সম্পর্কের একটি মধুর সময়কে উপলক্ষ করেও মধুচন্দ্রিমা উদ্‌যাপন করা হয়ে থাকে।