বর্তমান বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং এর বহুমুখী প্রভাব। মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে শুরু করে জনগণের অর্থনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে এই যুদ্ধ সরাসরি জড়িত না হয়েও প্রতিটি মানুষকে প্রভাবিত করছে। মূলত জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তার ও মাফিয়া সাম্রাজ্যবাদের লুটেরা প্রবণতাই এই সংঘাতের মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
লিবিয়া, ইরাক এবং আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোর ধ্বংসযজ্ঞের পর পরাশক্তিগুলোর সাম্প্রতিক আচরণ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্প প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং দেশটির প্রেসিডেন্টকে আটক করার ঘটনাকে অনেকে গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
গত দুই সপ্তাহে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যখন সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তখন একটি ভারতীয় তেলের ট্যাংকার ইরানের নৌবাহিনী কর্তৃক ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলমান রয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এমন পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষ থেকে ইরানকে আক্রমণের হুমকির বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। যদিও এই হুমকির সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভারত ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর বেশ কয়েকটি যুদ্ধে জড়িয়েছে, যার মধ্যে ১৯৬২ ও ১৯৭১ সালের পাকিস্তান যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের ভূমিকা বাংলাদেশের জনগণের কাছে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণীয় হলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে কিছু আঞ্চলিক পরাশক্তির আচরণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি করছে।
রিপোর্টারের নাম 

























