ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

ইসরায়েলে গভীর সংকট: যুদ্ধের আতঙ্কে শহর ছাড়ছে মানুষ, নড়বড়ে সমাজ ও অর্থনীতি

বহু দশক ধরে তেল আবিবকে ইসরায়েলের অন্যতম নিরাপদ ও স্বাভাবিক শহর হিসেবে গণ্য করা হতো। রাতভর খোলা থাকত ক্যাফেগুলো, আর আধুনিক, আত্মবিশ্বাসী সমাজের চিত্র দেখতে আসতেন পশ্চিমা বিনিয়োগকারীরা। তবে সম্প্রতি সেই পরিচিত চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। ইরানের হামলার আশঙ্কায় এবং নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে পরিবার, শিক্ষার্থী ও তরুণ দম্পতিরা শহর ছেড়ে যাওয়ায় তেল আবিবের অনেক এলাকা এখন প্রায় জনশূন্য।

এই পরিস্থিতি কেবল বাহ্যিক ক্ষয়ক্ষতির কারণে নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক কারণ। যে রাষ্ট্র একসময় তার জনগণের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এখন তারা নিজেদের নাগরিকদের আশ্বস্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে। ইরান-ইসরায়েলের চলমান সংঘাত ইসরায়েলিদের আবাসস্থলকে একরকম যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর ইরানের পাল্টা মিসাইল ও ড্রোন হামলায় ইসরায়েলিরা এখন সাইরেন, শেল্টার এবং এক অনিশ্চিত দৈনন্দিন জীবনের মধ্যে আটকা পড়েছে।

ইরানের হামলার সময় ইসরায়েলিদের বারবার আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটতে হচ্ছে। পাবলিক শেল্টারগুলোতে প্রচণ্ড ভিড়, যেখানে সুরক্ষিত কক্ষ আছে এমন পরিবার এবং অন্যদের মধ্যে অসমতা প্রকটভাবে চোখে পড়ছে। এই বৈষম্য দরিদ্রদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলছে, পাশাপাশি ভাড়াটিয়ারাও রয়েছেন চরম উদ্বেগে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেও ইসরায়েলের সমাজ নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। ইরান যুদ্ধের আগে থেকেই ইসরায়েলিরা ভয়াবহ রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সামাজিক উত্তেজনা প্রত্যক্ষ করেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, বিশেষ করে সেক্যুলার ও শিক্ষিত ইসরায়েলিদের মধ্যে দেশ ছাড়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা দেশটির অর্থনীতির ভিত্তিকে দুর্বল করে দেবে। কিছু প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, গত দুই বছরে প্রায় দেড় লাখ ইসরায়েলি দেশ ছেড়েছেন, এবং বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই সংখ্যা দুই লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, ইসরায়েলিদের মধ্যে দেশ ছাড়ার প্রবণতা দ্রুত গতিতে বাড়ছে।

ইসরায়েল সরকারের নিজস্ব হিসাবও একই চিত্র তুলে ধরছে। ইসরায়েলের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ৬৯ হাজার ৩০০ জন দেশ ছেড়েছিলেন, যাদের মধ্যে ১৯ হাজার ফিরে এলেও বাকিরা ফেরেননি। এই নেতিবাচক প্রবণতার প্রতীকী তাৎপর্য বিশাল, কারণ ইসরায়েল দীর্ঘকাল ধরে অভিবাসীদের জন্য একটি আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত ছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে মার্কিন নাগরিকদের প্রবল অনীহা: নতুন জরিপ

ইসরায়েলে গভীর সংকট: যুদ্ধের আতঙ্কে শহর ছাড়ছে মানুষ, নড়বড়ে সমাজ ও অর্থনীতি

আপডেট সময় : ০৯:৩২:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

বহু দশক ধরে তেল আবিবকে ইসরায়েলের অন্যতম নিরাপদ ও স্বাভাবিক শহর হিসেবে গণ্য করা হতো। রাতভর খোলা থাকত ক্যাফেগুলো, আর আধুনিক, আত্মবিশ্বাসী সমাজের চিত্র দেখতে আসতেন পশ্চিমা বিনিয়োগকারীরা। তবে সম্প্রতি সেই পরিচিত চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। ইরানের হামলার আশঙ্কায় এবং নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে পরিবার, শিক্ষার্থী ও তরুণ দম্পতিরা শহর ছেড়ে যাওয়ায় তেল আবিবের অনেক এলাকা এখন প্রায় জনশূন্য।

এই পরিস্থিতি কেবল বাহ্যিক ক্ষয়ক্ষতির কারণে নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক কারণ। যে রাষ্ট্র একসময় তার জনগণের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এখন তারা নিজেদের নাগরিকদের আশ্বস্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে। ইরান-ইসরায়েলের চলমান সংঘাত ইসরায়েলিদের আবাসস্থলকে একরকম যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর ইরানের পাল্টা মিসাইল ও ড্রোন হামলায় ইসরায়েলিরা এখন সাইরেন, শেল্টার এবং এক অনিশ্চিত দৈনন্দিন জীবনের মধ্যে আটকা পড়েছে।

ইরানের হামলার সময় ইসরায়েলিদের বারবার আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটতে হচ্ছে। পাবলিক শেল্টারগুলোতে প্রচণ্ড ভিড়, যেখানে সুরক্ষিত কক্ষ আছে এমন পরিবার এবং অন্যদের মধ্যে অসমতা প্রকটভাবে চোখে পড়ছে। এই বৈষম্য দরিদ্রদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলছে, পাশাপাশি ভাড়াটিয়ারাও রয়েছেন চরম উদ্বেগে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেও ইসরায়েলের সমাজ নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। ইরান যুদ্ধের আগে থেকেই ইসরায়েলিরা ভয়াবহ রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সামাজিক উত্তেজনা প্রত্যক্ষ করেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, বিশেষ করে সেক্যুলার ও শিক্ষিত ইসরায়েলিদের মধ্যে দেশ ছাড়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা দেশটির অর্থনীতির ভিত্তিকে দুর্বল করে দেবে। কিছু প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, গত দুই বছরে প্রায় দেড় লাখ ইসরায়েলি দেশ ছেড়েছেন, এবং বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই সংখ্যা দুই লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, ইসরায়েলিদের মধ্যে দেশ ছাড়ার প্রবণতা দ্রুত গতিতে বাড়ছে।

ইসরায়েল সরকারের নিজস্ব হিসাবও একই চিত্র তুলে ধরছে। ইসরায়েলের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ৬৯ হাজার ৩০০ জন দেশ ছেড়েছিলেন, যাদের মধ্যে ১৯ হাজার ফিরে এলেও বাকিরা ফেরেননি। এই নেতিবাচক প্রবণতার প্রতীকী তাৎপর্য বিশাল, কারণ ইসরায়েল দীর্ঘকাল ধরে অভিবাসীদের জন্য একটি আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত ছিল।